টাঙ্গাইল জেলার ১ হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ হাজার ৪৫৯টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এবং ৫৭১টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি। পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষক সংকটের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলায় ৭৩৫ জন প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন।
উপজেলাভিত্তিক প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের মধ্যে ঘাটাইলে ১১০টি, গোপালপুরে ১২৬, কালিহাতীতে ১১২, নাগরপুরে ১০৫, ভূঞাপুরে ৭৫, মধুপুরে ৭৩, দেলদুয়ারে ৬৩, মির্জাপুরে ৬০, ধনবাড়ীতে ৩৬, বাসাইলে ৩০, সখীপুরে ২৪ এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৭৪টি পদ রয়েছে।
অন্যদিকে জেলায় সহকারী শিক্ষকের ৯ হাজার ৬৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে খালি রয়েছে ৫৭১টি। এর মধ্যে ঘাটাইল উপজেলায় ৮৫টি, গোপালপুরে ৮১, নাগরপুরে ৬৫, কালিহাতীতে ৬৪, ভূঞাপুরে ৫৪, মির্জাপুরে ৫০, দেলদুয়ারে ৪৬, টাঙ্গাইল সদরে ৪১, সখীপুরে ২৯, মধুপুরে ২৭, ধনবাড়ীতে ১৬ এবং বাসাইল উপজেলায় ১৩টি পদ শূন্য আছে।
ঘাটাইলের খাজনাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন জানান, ১১২ জন শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচজন শিক্ষকের পদ থাকলেও কাজ করছেন মাত্র দুইজন। দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হওয়ায় বাকি একজন শিক্ষকের পক্ষে দুই শিফটে পাঠদান পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মানসম্মত শিক্ষা না পেয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাসাইল উপজেলা শাখার সভাপতি বাশিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ঘাটতির কারণে শ্রেণিকক্ষে শেখানো কার্যক্রমের পর্যাপ্ত সময় ও শিখন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এতে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামান মিয়া জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহীন মিয়া বলেন, শূন্যপদের বেশিরভাগই প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলের। সংযুক্তির মাধ্যমে সমন্বয় করে পাঠদান চালু রাখার চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সরকার শূন্যপদ পূরণে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, চলতি দায়িত্বপ্রাপ্তদের পদোন্নতি দিয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।


