মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের তখন চলছে কোয়াব আয়োজিত বিজয় দিবস প্রীতি ম্যাচ। তবে প্রেসবক্সে সাংবাদিকদের নজর তখন টিভির স্ক্রিনে। কারণ আইপিএলের মিনি নিলামে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে টানাটানি চলছে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে। ২ কোটি, ৪ কোটি, ৫ কোটি, ৭ কোটি থেকে তরতরিয়ে বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসারের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে, বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমান ১২ কোটি টাকার বেশি।
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এত দামে বিক্রি হলেন মোস্তাফিজ, তাকে নিয়েছে তিন বারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। যেখানে খেলেছেন বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান। সেই হিসেবে এই দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় আইপিএলের এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। মোস্তাফিজকে নিয়ে আইপিএলের নিলামে হুলস্থুল বাধার সময়টায় অবশ্য মাঠের লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন তার জাতীয় দলের দুই সতীর্থ নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুইজনই নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন প্রীতি ম্যাচের দুই দল অপরাজেয় ও অদম্যকে।
অবশ্য ম্যাচ শেষে দুজনই শুনেছেন মোস্তাফিজের রেকর্ড ভাঙা মূল্যের কথা। সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে এ নিয়ে জানতে চাওয়া শান্তর কাছে। শান্ত বলেন, ‘শুনলাম, আমি খুবই খুশি। মানে খুবই ভালো দাম দেখে। কিন্তু এক্স্যাক্টলি জানি না কত।’
পাল্টা প্রশ্নে মোস্তাফিজের দাম জানতে পেরে শান্ত আরো বলেন, ‘হ্যা, এটা খুবই খুশির খবর। আমার মনে হয় যে মানে আপনাদের উচিত এখন এটারে যত ভালোভাবে প্রেজেন্ট করা যায় মানুষের সামনে।’
চড়া মূল্যে বিক্রি হওয়াতে মোস্তাফিজের কাছ থেকে কোনো ট্রিট আদায় করবেন কিনা, তাকে খোঁচা মেরে শান্ত বলেন, ‘চেষ্টা করব নেওয়ার (ট্রিট)। করাবে না মনে হয় (ট্রিট), তবে চেষ্টা করব নেওয়ার, কিন্তু ডাউট আছে।’
এক্সিলারেটেড নিলাম থেকে মোস্তাফিজের দল পাওয়ার সংবাদে খুশি হয়েছেন মিরাজও। বন্ধুর এই অর্জনে বেশ খুশি এই অলরাউন্ডার। অদম্য দলের এই অধিনায়ক বলেন, ‘যখন খেলছিলাম, তখন শুনেছিলাম যে ও খুব ভালো একটা প্রাইস পেয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ মানে এটা আমাদের বাংলাদেশের জন্য অনেক একটা আমরা মনে করি একটা ব্লেসিং। কারণ বাংলাদেশ থেকে এরকম একটা প্লেয়ার ও ডিজার্ভ করে আমি মনে করি। কারণ ও বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন করেছে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ও অনেক অর্জন করেছে। সো আমি মনে করি এটা ও ডিজার্ভ করে।’


