মিশরের শারম আল-শেখে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি যৌথ ঘোষণায় সাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্ক।
সোমবার ‘গাজা শান্তি সম্মেলনে’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং কাতার ও তুরস্কের নেতারা এই যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন।
বার্তা সংস্থা এপি ও রয়টার্স জানায়, এই সম্মেলনে ট্রাম্প, সিসি সহ ৩০টিরও বেশি দেশের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের যুদ্ধ বিরতিতে উভয় পক্ষের বন্দি মুক্তির আবহে এই মিশর শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রথম দফায় সোমবার হামাসের ২০ জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে প্রায় দু’হাজার বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। এ নিয়ে তেল আবিব ও ফিলিস্তিনে হাজার হাজার জনতাকে উল্লসিত হতে দেখা গেছে।
সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল গাজা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সেখানকার মানবিক সংকট সমাধান। ট্রাম্প, সিসি ও অন্যান্য নেতারা একত্রিত হয়ে গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, ‘গাজার শান্তি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নয়, গোটা বিশ্বের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।’
চুক্তি অনুযায়ী, গাজা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ৫৩ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অর্থ দিয়ে গাজা পুনর্গঠনের পাশাপাশি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হবে।
দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন, ‘এটি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শেষ সুযোগ।’
যদিও সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং হামাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন না, তবে সম্মেলনে অন্যান্য আন্তর্জাতিক নেতারা গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিশ্বব্যাপী সমর্থনের পাশাপাশি, এই শান্তি প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। গাজা অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় জনগণের সমর্থন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে, মিশর ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগের ফলে আশা করা হচ্ছে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত হবে।


