চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পড়ে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ এনার্জি ড্রিংকস, বেবি শ্যাম্পু ও অন্যান্য প্রসাধনসামগ্রী ধ্বংস করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব পণ্যের পরিমাণ প্রায় ৯১ টন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শেডে কাস্টমসের ধ্বংসকরণ কমিটির তত্ত্বাবধানে এসব পণ্য ধ্বংস কার্যক্রম শুরু হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কেএম করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মো. মোর্শেদ বলেন, দুটি আলাদা চালানের এসব পণ্য পাঁচটি কনটেইনারে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এগুলো কাস্টমসের নিলাম শেডে পড়ে ছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত ধ্বংসকরণ কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এসব পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ বলেন, পাঁচটি কনটেইনারের মধ্যে চারটিতে ছিল টাইগার ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিংকস। অন্য কনটেইনারে ছিল বেবি শ্যাম্পু ও বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য।
তিনি জানান, গ্লোব ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি এসব এনার্জি ড্রিংকস ২০১৯ সালে কাতারে রপ্তানি করা হয়েছিল। তবে সেখানে চালানটি কাস্টমস ছাড়াতে না পারায় তা বাংলাদেশে ফেরত আসে। এরপর কয়েক বছর কাস্টমসে পড়ে থাকায় পণ্যগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং সেগুলো মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
রাসেল আহমেদ আরও বলেন, ২০২৪ সালে আমদানি করা শ্যাম্পু ও শাওয়ার জেল বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় খালাস করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ এসব তরল পণ্য পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হচ্ছে। খালি প্লাস্টিকের বোতল ও প্যাকেট মাটিতে পুঁতে ফেলার পরিবর্তে পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে সেগুলো পুনর্ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাসেল আহমেদ বলেন, ‘প্লাস্টিক বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেললে পরিবেশের ক্ষতি হবে। তাই খালি প্লাস্টিকের বোতল ও প্যাকেট নিবন্ধিত রিসাইক্লিং ও প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।’


