ঢাকার ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ।
শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদী কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানানো হয়।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘রাতভর সবাই দেখেছে কারা কীভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তাই তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আমরা সবাই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে একটি মহল। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান সামিনা লুৎফা।
দেশের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং গণমাধ্যমের ওপর এই হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। ভবিষ্যতে যেন আর এরকম হামলা না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এসময় ‘সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপর হামলা কেন’, ‘দঙ্গল চাই না’, ‘হামলার প্রতিবাদ জানাই’, ‘ছায়ানটে হামলা কেন, ইন্টেরিম কোথায়?’ প্রভৃতি হাতে লেখা পোস্টার প্রদর্শন করেন প্রতিবাদকারীরা।
প্রতিবাদী কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মার্জিয়া রহমান, বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে ঢাকা-৭ আসনের মনোনীত প্রার্থী সীমা দত্ত এবং ছায়ানটে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অনেকে।
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদকের শোক ও নিন্দা
এদিকে ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা। সেইসঙ্গে ছায়ানটে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান তিনি।
পৃথক বক্তব্যে লাইসা আহমদ লিসা বলেন, ‘ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছায়ানটে হামলার ঘটনাটি আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এই মুহূর্তে খুবই বিচলিত। ভীষণভাবে চাইছি এটার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’
এছাড়াও ছায়ানটের সামনে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয় টাইমস অব বাংলাদেশের। ছায়ানট প্রাক-প্রাথমিক স্তরে লেখাপড়া করেন ইশতিয়াক আহমেদের ছেলে। গত রাতের হামলার ঘটনায় তারা ‘ট্রমাটাইজড’ হয়েছেন বলে জানান।
ছায়ানটের রবীন্দ্র সঙ্গীতের শিক্ষক পার্থ প্রতীম রায় টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘নিচতলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত সবখানেই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। সব বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে লাইব্রেরি। এমনকি চেয়ার-টেবিল-আলমারি পর্যন্ত রক্ষা পায়নি।’


