মিয়ানমারের জান্তা প্রধান থেকে নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং দেশের সব বন্দীর সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির কারাদণ্ডও আরও কমবে বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবারের একটি সরকারি ছুটি উপলক্ষে বন্দীদের অবশিষ্ট সাজার ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হবে। বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো বন্দীর নাম উল্লেখ করা না হলেও সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) এক জ্যেষ্ঠ সদস্য নিশ্চিত করেছেন, ৮০ বছর বয়সী সু চির ক্ষেত্রেও এই আদেশ কার্যকর হবে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বন্দী রয়েছেন। এনএলডির ওই জ্যেষ্ঠ সদস্য এএফপিকে বলেন, ‘সাজা কমলেও তার মেয়াদের আর কতদিন বাকি রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এমনকি তার সাজা ঠিক কত বছর বাকি আছে, সেটাও আমরা জানি না।’
মিয়ানমারের অস্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থার কারণে সু চি ইতোমধ্যে কতটা সাজা ভোগ করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। ফলে এই ঘোষণার পর তার সাজা ঠিক কত বছর কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
পাঁচ বছর আগে সেনাবাহিনী সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। দুর্নীতি ও কোভিড-১৯ বিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে শুরুতে তাকে তিন দশকের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, সু চিকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখতেই এসব সাজানো অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৩ সালে কিছু অভিযোগে ক্ষমা পাওয়ার পর তার সাজা কমে ২৭ বছরে দাঁড়ায়।
অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের নেতৃত্বে আছেন মিন অং হ্লাইং। প্রথমে সামরিক প্রধান হিসেবে থাকলেও চলতি মাসে এনএলডিকে বাদ দিয়ে সীমিত পরিসরের এক নির্বাচনের পর তিনি বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।
গণতন্ত্র পর্যবেক্ষকরা এই প্রক্রিয়াকে সামরিক শাসনের নতুন রূপ এবং বিধিনিষেধ শিথিল করার এই পদক্ষেপকে সরকারের ভাবমূর্তি সংস্কারের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


