১০৯ রানের পূঁজি নিয়ে আর যাই হোক, টি-টোয়েন্টি ম্যাচ যে জেতা যায় না, সেটার প্রমাণ আরো একবার হাতেনাতে পেল বাংলাদেশ, তাও প্রতিপক্ষ যেখানে অস্ট্রেলিয়া। রোববার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হেরেছে ৭ উইকেটের ব্যবধানে। অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শের ২৮ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৫৪ বল আগে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়রা।
আগের দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় পুড়েছে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় আর রিশাদ হোসেন ছাড়া কেউই যেতে পারেননি দুই অংকের ঘরে। ৩৬ রানের মধ্যে প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ যে শত রানের কোটা পেরোতে পেরেছে সেটার অবদানও হৃদয়ের। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে ৫১ বলে ৬১* রানের ইনিংস খেলছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। সেসবে ভর করে পুরো ২০ ওভার খেলে ৮ উইকেটে ১০৯ রান করে বাংলাদেশ।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাওয়ারপ্লের আগেই অস্ট্রেলিয়া তুলে ফেলে ৫৪ রান, যেখানে বেশিরভাগ অবদানই মার্শের। নাসুমের বলে জশ ইংলিস ১৭ রানে ফিরলেও ২৩ বলে নিজের ১৪-তম ফিফটি তুলে নেন মার্শ। শরীফুল ইসলামের বলে শামীম হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে মার্শের ব্যাট থেকে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় আসে ৬০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। দলীয় ১০০ রানের কুপার কোনোলিকে ফেরান রিশাদ হোসেন। তবে পাঁচ নম্বরে নেমে দলকে ম্যাচ জেতাতে টিম ডেভিড সময় নেন মাত্র ৩ বল। তার দুই ছক্কাতেই নিশ্চিত হয় অজিদের জয়।
টসে জতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রান আউটে ফেরেন তানজিদ হাসান। নিজেকে দুর্ভাগাও ভাবতে পারেন তিনি, কারণ সাইফ হাসানের খেলা শট স্পেন্সার জনসনের হাতে লেগে ভেঙে দেয় নন স্ট্রাইক প্রান্তের উইকেট, ততক্ষণে ব্যাট পপিং ক্রিজের মধ্যে রাখতে না পারায় আউট হন ব্যক্তিগত ৫ রানে। পরের ওভারে সাইফও টিকতে পারেননি। ৯ বল খেলে করেছেন ১ রান। জনসনের স্লোয়ারে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন মার্শের হাতে। ৬ রান করে নুরল হাসান বোল্ড হয়েছেন জ্যাম্পার বলে। ৪ ওভার বল করে মাত্র ৬ রান দেয়া জনসনের দ্বিতীয় শিকার শামীম হোসেন, যিনি রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
এদিকে এক প্রান্তে লড়েছেন ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেয়া হৃদয়, শেষ দিকে তাকে সঙ্গ দিয়েছেন ১৬ রানের ইনিংস খেলা রিশাদ। রিশাদের এই ইনিংসের মাহাত্ম্য অবশ্যই আলাদা। কারণ তিনি আর ৩ ছক্কা, ৩ চারে ৬১ রানের ইনিংস খেলা হৃদয় ছাড়া কেউই যেতে পারেননি ডাবল ফিগারে।
বাংলাদেশকে ১০৯ রানে আটকে রাখার ইনিংসে জনসনের সাথে দুটি করে উইকেট নেন নাথান এলিস ও অ্যাডাম জ্যাম্পা। এক উইকেট নেন নিখিল চৌধুরী।


