মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক হত্যাকাণ্ডের এক মাস না পেরোতে পুনরায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার ভোরে আলোকদিয়া খেয়াঘাটের ৭ নম্বর টাওয়ার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলোকদিয়া গ্রামের নিকট যমুনার ইজারা দেওয়া স্থানে গত ৩ এপ্রিল পলিমাটি কাটার সময় প্রতিপক্ষের হামলায় ম্যানেজার মিরাজ হোসেন (৪০) নিহত হন।
ওই ঘটনায় ইজারাদার কাওছার আলম ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। হত্যার এক মাস পর ৪ মে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে রাসেল (২৪) নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর ৬টার দিকে খেয়াঘাটের ৭ নম্বর টাওয়ার এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি মেসার্স ইকরাম কনস্ট্রাকশনের লোকজনকে ডেকে তোলেন। হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোরা সকাল ৭টার মধ্যে সবকিছু নিয়ে এখান থেকে চলে যাবি। ফরিদপুর থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যমুনায় শুধু “ছাত্তার কমিশনারে”র নামে ড্রেজিং চলবে।’
এই হুমকি দেওয়ার সময় তারা ফাঁকা গুলি করে উত্তর দিকে চলে যায়। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
মেসার্স ইকরাম কনস্ট্রাকশনের ইজারাদার মুঠোফোনে জানান, ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় তেওতা বালুমহালটি ইজারা নেওয়া হলেও তিনি সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করেন না। বর্তমানে অন্যেরা এর দায়িত্বে রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
শিবালয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে ১০ জনের একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করেছে।
তিনি বলেন, ‘এর আগে সংঘটিত হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে রোববারের গুলিবর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


