বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়াতে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির প্রধান করা হয়েছে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসব জানিয়েছেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া পরিচালক বলেন, ‘বিসিবির ২০২৫ সালের নির্বাচনে অনেক অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের স্বাধীন তদন্ত কমিটি। ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নীতিমালা অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, বিসিবি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অনিয়ম ছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে আইসিসির কাছে ই-মেইল করে এই বিসিবি কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ সদস্যের এডহক কমিটি করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য থাকবে এডহক কমিটি।’
তামিমের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আতাহার আলী খান, মিনহাজুল আবেদীন নানু, রাসনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।
সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এনএসসি। গেল ১১ মার্চ গঠিত এই নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি এনএসসিতে রিপোর্ট জমা দিয়েছে গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে।
এরপর কমিটির প্রধান ও সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান জানান, ভবিষ্যতে বিসিবি নির্বাচনকে আরো স্বচ্ছ্ব করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ করেন তারা।
২০২৫ সালের অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে কারচুপি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে সরে দাঁড়ান তামিম ইকবালসহ আরও ১৯ পরিচালক পদপ্রার্থী। নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা জয়ী হলেও শুরু থেকেই এই বোর্ডের বিরোধীতা করে আসছিলেন তামিমসহ অন্যান্য ক্লাব কর্মকর্তারা। তাদের দেওয়া অভিযোগপত্রের প্রেক্ষিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করে এনএসসি, নির্বাচনে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম খতিয়ে দেখতে।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানকে তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে ছিলেন। সদস্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এটিএম সাইদুজ্জামান ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট সালেহ আকরামকে।


