শীতের আমেজ আর ইনডোর স্টেডিয়ামে পিংপং বলের ঠুকঠাক শব্দ দেশের টেবিল টেনিস অঙ্গনের জন্য অতি আনন্দের এক দৃশ্য। পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়াম আবারও সেই উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায়। তবে প্যাডেল হাতে লড়াইয়ে নামতে খেলোয়াড়দের অপেক্ষাটা এবার একটু বাড়ছে। ভেন্যু জটিলতা কাটিয়ে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে পর্দা উঠছে ‘জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা ২০২৫’-এর।
মূলত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী এই আসরটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একই ভেন্যুতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ফলে টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিসের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও ভেন্যুর সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে ফেডারেশন টুর্নামেন্টটি ৯ দিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেবল তারিখ পরিবর্তনই নয়, এবারের জাতীয় আসরের ফরম্যাটেও আসছে বড় পরিবর্তন। দেশের টেবিল টেনিসের পাইপলাইন মজবুত করতে এবার মূল লড়াইয়ের আগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বয়সভিত্তিক র্যাংকিং টুর্নামেন্ট। অনূর্ধ্ব-১৯ এর নিচে বাংলাদেশে জাতীয় কোনো র্যাংকিং নেই, দীর্ঘদিনের এই আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে এবার।
প্রতিযোগিতার প্রথম দুই দিন, অর্থাৎ ৯ ও ১০ জানুয়ারি উৎসর্গ করা হয়েছে খুদে খেলোয়াড়দের জন্য। অনূর্ধ্ব-৯, ১১, ১৩, ১৫ এবং ১৭ এই পাঁচ বিভাগে বালক ও বালিকাদের সিঙ্গেলস র্যাংকিং টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে আসরের সূচনা হবে।
র্যাংকিং পর্ব শেষে ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে মূল পর্বের উত্তেজনা। ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ৮ দিন অনূর্ধ্ব-১৯ (বালক-বালিকা) এবং সিনিয়র (পুরুষ-মহিলা) বিভাগে সর্বমোট ১৪টি ইভেন্টে পদকের লড়াই চলবে। এর মধ্যে সিনিয়র ও জুনিয়র উভয় ক্যাটাগরিতেই ৭টি করে ইভেন্ট রাখা হয়েছে।
ইভেন্টগুলো হলো, পুরুষ ও মহিলা বিভাগে দলগত, একক, দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত। একইভাবে জুনিয়র বা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতেও বালক ও বালিকাদের জন্য থাকছে একক, দ্বৈত, দলগত এবং মিশ্র দ্বৈত ইভেন্ট।
তরুণ প্রতিভাদের উঠে আসার পথটা এবার আরও প্রশস্ত। জাতীয় প্রতিযোগিতায় বালক বিভাগের শীর্ষ ৮ জন খেলোয়াড় সরাসরি সিনিয়র ক্যাটাগরিতে পুরুষদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, বালিকাদের জন্য সুযোগটা আরও উন্মুক্ত, নির্দিষ্ট সংখ্যার কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই যেকোনো বয়সী বালিকা খেলোয়াড় সিনিয়র ক্যাটাগরিতে লড়ার সুযোগ পাবে।
জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন সার্ভিসেস দলসহ (যেমন সেনাবাহিনী, আনসার, পুলিশ, বিমান বাহিনী, বিকেএসপি ইত্যাদি) সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের উৎসাহ দিতে ফেডারেশন যাতায়াত ভাতা (নন-এসি বাস ভাড়া) এবং নির্ধারিত হারে দৈনিক ভাতা প্রদান করবে।


