ফেনীতে দিনে-রাতে ৪ ঘণ্টাও গ্যাস থাকে না, গ্রাহকদের ক্ষোভ

ফেনীতে দিনে-রাতে ৪ ঘণ্টাও গ্যাস থাকে না, গ্রাহকদের ক্ষোভ
Advertisement
Advertisement

ফেনীতে এখন নিত্যদিনের ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে আবাসিক গ্যাসের তীব্র সংকট। অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় চুলায় আগুন জ্বলছে না। দিনরাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ঘণ্টাও মিলছে না নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস। রান্না করতে না পেরে হাজারো পরিবার বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই এলপিজি সিলিন্ডার, ইলেকট্রিক চুলা ও লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ সকাল ও দুপুরের খাবারের জন্য হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভর করছেন।

গত কয়েক মাস ধরে চলা এ সংকটে ফেনী শহর ও আশপাশের আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

একই অবস্থা শিল্পকারখানাগুলোতেও। গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ফেনী কার্যালয়ের আওতায় আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ৩২ হাজার। নিয়মিত বিল দিলেও কয়েক মাস ধরে সকাল ও দুপুরে প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।

শহরের পূর্ব উকিলপাড়া, পেট্রোবাংলা, বাঁশপাড়া, সহদেবপুর, আলোকদিয়া, পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার ও রামপুরসহ প্রায় সব এলাকায় একই চিত্র। কোথাও গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভাত রান্না করতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগে, আবার কোথাও চুলাই জ্বলে না।

ভোরে কিছুটা গ্যাস থাকলেও সকাল ৭টার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত চুলা প্রায় বন্ধ থাকে। এরপর গভীর রাতে আবার কিছুটা গ্যাস পাওয়া যায়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে।

আরও পড়ুন

পূর্ব উকিলপাড়ার বাসিন্দা ফাহিমা আবেদীন জানান, সঞ্চালন লাইন থাকলেও চুলায় আগুন না থাকায় সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে রান্নায় তিন ধরনের খরচ বহন করতে হচ্ছে।

গদলগাজী এলাকার প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন বলেন, বছরের পর বছর কেটে গেলেও এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আরামবাগের বাসিন্দা অপর্ণা নাথ জানান, কালেভদ্রে গ্যাস এলেও চুলা না জ্বালিয়েই অযথা সংযোগের বিল গুনতে হচ্ছে।

আলোকদিয়া গ্রামের কাজী রিয়াজ বলেন, রাত ১২টায় গ্যাস এসে সকাল ৬টায় চলে যায়। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার ব্যবহার করায় বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টারের এক ভবন মালিক জানান, তার সাততলা ভবনে ১৪টি চুলা রয়েছে। প্রায়ই ভাড়াটিয়ারা গ্যাস না থাকার অভিযোগ করেন। গ্যাস অফিসে জানিয়েও সমাধান না পাওয়ায় অনেকে বিল দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

একাধিক গৃহিণী জানান, সকালে নাস্তা বা দুপুরের খাবার রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে বাইরের খাবার কিনতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও খরচ দুটিই বাড়াচ্ছে।

সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় খাবারের দোকান ও ছোট ব্যবসার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান জানান, পুরোনো সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে কবে সমস্যার সমাধান হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় দ্রুত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করতে হবে। তা না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad