দুবাই পুলিশের হেফাজতে থাকা পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আমিরাত সরকার দ্রুতই ফেরত দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদেরকে পুরস্কার প্রদান শেষে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের বিষয়ে সংসদে যেদিন জানিয়েছি, তার পরের দিন বিকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, দেশটির সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগিরই তাকে ফিরিয়ে দেবে।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মামলায় ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিং মল থেকে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনানুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর সুযোগ থাকলেও সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নথিপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
আগামী ২৩ জুনকে ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এলার্ট করা আমাদের কাজ। সন্দেহ করছি, ২৩ জুনকে (আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী) কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা করতে চাইবে। পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করবে, সেজন্য সারা দেশে এলার্ট করা হয়েছে। সেটিকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না, সেটি একটি মাফিয়া পার্টি।’
পুলিশের ব্যর্থতার বিষয় খুব হাইলাইট করা হয়, সফলতার বিষয় হাইলাইট করা হয় না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম থেকেই দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালনের বিষয়ে কঠোর থাকার কথা চিন্তা করেছে সরকার। সেজন্য পানিশমেন্ট অ্যাওয়ার্ড নীতি রয়েছে। যারা নিষ্ক্রিয় থাকবে, দায়িত্বে অবহেলা করবে এবং দুর্নীতি করবে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
পুলিশকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্যই পুরস্কৃত করা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা কর্তব্যপালন করছে, তাদের স্বীকৃতি দিতে চাই। মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল, পুলিশ বাহিনী হয়তো নিষ্ক্রিয় হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে তড়িৎ গতিতে পুলিশ বাহিনী নৈতিক সাহস ফিরে পেয়েছে। নির্বাচিত সরকার আসার পর তারা অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা দায়িত্ব পালন করছে; এটি লক্ষ্যণীয়। এমন কৃতিত্বের জন্য তাদের সম্মান করা উচিৎ। সরকার তাদের উৎসাহ দিচ্ছে যেন বাকিরাও অনুপ্রাণিত হয় এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হয়।’
মোহাম্মদপরে চলমান অপরাধ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুর বহু বছর ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়েছে, সেখানে রাতারাতি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেখানে অপরাধীদের নির্মূল করা হবে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।’


