নেত্রকোনায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম সরবরাহ মেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ জনজীবন। বিশেষ করে গত এক মাস ধরে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে তীব্র গরমে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, জেলাজুড়ে মোট ৭ লাখ ২১ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ১৫০ থেকে ১৫২ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের ১৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সম্প্রতি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি দেখা গেছে।
একইভাবে পিডিবির ২২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ এসেছে ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট, যা চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ ঘাটতি তৈরি করছে। মূলত ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ গ্রিড থেকে কাঙ্ক্ষিত সরবরাহ না পাওয়াতেই এই সংকটের উদ্ভব।
ভয়াবহ এই বিদ্যুৎ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান গ্রামের অধিবাসী আঙুর মিয়া ও আবদুল হাই জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে দিনে ৮ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
মোহনগঞ্জ সদরের কামরুজ্জামান জানান, বিদ্যুৎ গেলে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার আগে ফিরছে না, দিনে মাত্র ৬ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ মিলছে। জেলা শহরের সাতপাই এলাকার বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন খান রুবেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পানির পাম্প চালানো থেকে শুরু করে সন্তানদের পড়াশোনা–সবই থমকে গেছে।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন জানান, জেলায় ১৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। তীব্র সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এদিকে নেত্রকোনা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদা ২২ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় কিছুদিন লোডশেডিং বেশি ছিল। তবে বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।’


