গ্রামের পণ্য বিশ্ববাজারে নিতে চায় সরকার: আমির খসরু

গ্রামের পণ্য বিশ্ববাজারে নিতে চায় সরকার: আমির খসরু
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

গ্রামের কারিগরদের তৈরি শীতলপাটি, মৃৎশিল্প, তাঁত ও রুপার গয়নাসহ বিভিন্ন পণ্য বিশ্ববাজারে নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, কারিগরদের শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, উন্নত কাঁচামাল, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তাও দিতে হবে। এতে আয় বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

বুধবার ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স অন ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড এসডিজির সমাপনী অনুষ্ঠানে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, এসডিজি কোনো দাতব্য কর্মসূচি নয়। এর লক্ষ্য মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও নাগরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা। শুধু ভাতা বা নগদ সহায়তা দিয়ে মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করা সম্ভব নয়। মানুষের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই কাজ করছেন। কিন্তু পণ্যের যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন না। বরিশালের শীতলপাটি কারিগরদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন কারিগর ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় একটি শীতলপাটি বিক্রি করেন। আন্তর্জাতিক বাজারে শ্রম ও কারুশিল্পের কারণে এ পণ্যের মূল্য আরও বেশি হতে পারে।

সরকার সৃজনশীল অর্থনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, শীতলপাটি, মৃৎশিল্প, তাঁত, কামার-কুমারের পণ্য ও রুপার গয়নার কারিগরদের উন্নত কাঁচামাল, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সুবিধা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ভালো নকশা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে ৭০০ টাকার শীতলপাটি ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে। একইভাবে ১০ টাকার পণ্যে মূল্য সংযোজন করে ৩০ টাকায় বিক্রি করা যেতে পারে। এতে কারিগরদের আয় ও উৎপাদন বাড়বে। তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

গ্রামীণ পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নিতে আলিবাবা, আমাজন ও ইবের মতো প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বাংলাদেশের এসব পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

থাইল্যান্ডের ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের উদাহরণ দিয়ে আমির খসরু বলেন, সেখানে গ্রামের মানুষকে দক্ষতা উন্নয়ন, কাঁচামাল, নকশা ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরে গ্রামের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামের অর্থনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশেও এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার।

তবে সরকার একা এ কাজ করতে পারবে না বলে জানান অর্থমন্ত্রী। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কারিগরদের কাছে নকশা, কাঁচামাল, ঋণ ও বাজারসংযোগ পৌঁছে দিতে বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে অংশীদার করা হয়েছে।

সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় গ্রামীণ কারিগরদের পাশাপাশি থিয়েটার, সংগীত ও খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
সরকারের এ উদ্যোগকে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুফলও তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। এসডিজির মূল দর্শনের সঙ্গেও এ ধারণার মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু নীতি বা বাজেটে বরাদ্দ দিলেই হবে না। উদ্যোগগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার, বেসরকারি খাত, এনজিও, নকশাবিদ ও অন্যান্য অংশীজনকে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ত্রুটি চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক মানুষের উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়বে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad