জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মঙ্গলবার অগ্রণী ব্যাংকের দুটি লকারে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করার পর জানা গেছে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের হলফনামায় তিনি তার সব অলংকারের মূল্য দেখিয়েছিলেন মাত্র ১৩ লাখ টাকা ।
অবশ্য স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকারের পরিমাণ কত ছিল হলফনামায় তা উল্লেখ করেননি শেখ হাসিনা। ভল্ট থেকে উদ্ধার হওয়া এত বিপুল স্বর্ণালংকারের বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা বলে বুধবার টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
তারা আারও জানান, লকারে স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি সোনার বার, কয়েন, মুক্তা, হীরাসহ বিভিন্ন ধরনের দামি পাথরও পাওয়া গেছে। সেগুলোর বাজারমূল্য নির্ধারণ করার পর মূল্য আরও বাড়বে। তবে আয়কর নথিতে এসবের কোনো তথ্যই দেননি শেখ হাসিনা।
তাদের মতে, একজন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কারো কাছ থেকে পাওয়া উপহার সামগ্রীও ব্যক্তিগত লকারে রাখার কোনো সুযোগ নেই। এর মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের মতো অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এটিকে আইনি দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি লকারে পাওয়া মূল্যবান এসব দামি পাথরও রাষ্ট্রীয় জিম্মায় ব্যাংকেরই অন্য একটি লকারে সিলগালা করে রাখা হয়েছে।
এদিকে, পূবালী ব্যাংকের লকার ভেঙে শুধু একটি খালি পাটের বস্তা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। সেই লকারে জমা থাকা সম্পদ বা মূল্যবানসামগ্রী আগেই শেখ হাসিনা সরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার নামে থাকা ব্যাংকের স্থিতি, এফডিআর, ভল্ট বা লকারের তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে চিঠি দেয় সিআইসি। কিন্তু পূবালী ব্যাংক লকারের তথ্য গোপন রাখে। সে কারণে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শোকজও করা হয়।
‘আয়কর আইন অনুযায়ী তথ্য গোপন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটি প্রমাণীত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে’ আয়কর আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম টাইমসকে বলেন।
রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় শেখ হাসিনার নামে থাকা ৭৫১ ও ৭৫৩ নম্বর লকার ভেঙে এসব সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। শেখ হাসিনার নামে অগ্রণী ব্যাংকের এ দুটি লকার ছাড়াও মতিঝিলে পূবালী ব্যাংকের সেনা কল্যাণ ভবনের করপোরেট শাখায় থাকা একটি ভল্ট ভাঙা হয়। ওই ভল্টের নম্বর হচ্ছে ১২৮। ওই ভল্টে একটি চটের বস্তা পাওয়া যায়, যার ভেতরে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর রূপালী ব্যাংকের এবং ১৭ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকে থাকা লকারগুলো জব্দ করেছিল এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল।
গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কারণে লকারগুলো খোলা যায়নি। লকারের একটি চাবি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এবং অপর একটি চাবি লকারের মালিকানায় থাকা ব্যক্তির কাছে থাকে। লকার খোলার সময় দুটো চাবিই ব্যবহার করতে হয়।


