কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন। এতে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবায় সাময়িক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
এর আগে সকাল ৮টায় উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম রাফি (৩)। সে ওই গ্রামের সাব্বির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ,পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় রাফি। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মিরপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ১১ নম্বর মেডিকেল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ঘটনায় আব্দুস সামাদ ও জান্নাতুল রিয়া নামে দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে মিরপুর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলার কারণে রকির মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।
হাসপাতালের চিকিৎসক জান্নাতুল রিয়া বলেন, ‘স্বজনদের প্রিয়জন হারানোর বেদনা আমরা সহানুভূতির সঙ্গে দেখি। তবে হাসপাতালে জরুরি সেবাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।’
এদিকে ভাঙচুরের পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী।
মিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আজিজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলেই আছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


