পরোয়ানা: নেসলে ও মেঘনা বলছে মামলা ভুয়া-হয়রানিমূলক

পরোয়ানা: নেসলে ও মেঘনা বলছে মামলা ভুয়া-হয়রানিমূলক
Advertisement
Advertisement

নিম্নমানের কিটক্যাট চকলেট বাজারজাত এবং ভেজাল ও অনিরাপদ চিনি সরবরাহের অভিযোগে করা মামলা দুটিকে হয়রানিমূলক ও ভুয়া বলে মনে করে নেসলে বাংলাদেশ ও মেঘনা গ্রুপ।

সোমার এই দুই প্রতিষ্ঠানের তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার নিরাপদ খাদ্য আদালত-২ এর বিচারক নুসরাত সাহারা বীথি।

তবে নেসলে বাংলাদেশের দাবি, তারা সঠিক প্রক্রিয়ায় আমদানি করা কিটক্যাট সরবরাহ করে আসছে। সেই সঙ্গে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘হয়রানি’ হিসেবে উল্লেখ করছে।

অন্যদিকে মেঘনা গ্রুপ বলছে, তারা মামলার বিষয়ে কিছুই জানে না। এটি ভুয়া।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান দুই প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট তিনজনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে পরোয়ানা জারির পাশাপাশি এ দুই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ১৫ ডিসেম্বর।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিপাল আবে বিক্রমা ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামান এবং মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল।

আরও পড়ুন

এছাড়া নিম্নমানের গুঁড়া দুধ বিক্রির দায়ে এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. শাহাবুদ্দিন আলমের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

মামলার বাদী নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, ‘পরিদর্শনের সময় যেসব পণ্যে সন্দেহ হয় আমরা তা ল্যাবে পাঠিয়ে পরীক্ষা করি। মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ রিফাইন সুগার দেখে সন্দেহ হওয়ায় পরীক্ষা করা হয় এবং তাতে ভেজাল ও অনিরাপদ উপাদান পাওয়া যায়।’

‘এছাড়া বাজার থেকে সংগ্রহ করা কিটক্যাটও পরীক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের বলে ধরা পড়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর ভিত্তিতেই আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।’

নেসলে বাংলাদেশের পরিচালক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) দেবব্রত রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যা হচ্ছে, সেটা হয়রানি ছাড়া কিছু নয়। আমরা দুবাই ও ভারত থেকে কিটক্যাট আমদানি করি। কিটক্যাট পরীক্ষার বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড এখনও তৈরি হয়নি। তাই নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী মাত্রা পরিমাপ করে আমদানি করি। মামলার পর আমরা ব্যাখ্যা দিয়েছি, কিন্তু মামলাকারী আদালতকে ভুলভাবে বুঝিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বিপর্যস্ত।’

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (ব্র্যান্ড) কাজী মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। এগুলো সব ভুয়া।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, ‘ভেজাল ও মানহীন খাদ্যপণ্য বন্ধে প্রতিমাসে প্রায় ১৫০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। কোনো পণ্যে ভেজাল পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

‘কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদকের ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের উপাদান মেলে না। এসব ক্ষেত্রে উৎপাদককে সতর্ক করা হয় এবং ৩ থেকে ৬ মাস মানোন্নয়নের সময় দেওয়া হয়। এরপরও উন্নতি না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad