বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনটি সরকারি হস্তক্ষেপসহ নানান অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে সরে দাঁড়ান সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ আরো অনেক ক্লাব কাউন্সিলর ও ক্রীড়া সংগঠকরা। সেই জেরে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সেসব নিয়ে রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তামিমসহ শীর্ষ ক্লাবগুলোর কর্মকর্তা ও কাউন্সিলদের বড় একটি অংশ।
গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের কাউন্সিলর তামিমের সাথে এনএসসিতে উপস্থিত ছিলেন মোহামেডান পরিচালক লোকমান হোসেন, একই ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদউজ্জামান, সাবেক বিসিবি পরিচালক ও সূর্যতরুণ ক্লাবের কাউন্সিলর ফাহিম সিনহাসহ মোট আরো অনেকে।
এনএসসিতে অভিযোগ জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তারা। শুরুতে তামিম বলেন, ‘সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৫০টি ক্লাবই এই নির্বাচন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আবাহনী ও মোহামেডানের মতো বড় ক্লাবগুলোও এই বিষয়ে একমত। ৫০টি ক্লাব যদি বলে প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে আর নতুন করে কিছু বলার থাকে না। আবাহনী ও মোহামেডানের মতো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুটি ক্লাবও আছে। তারাও এই বিষয়ে একমত। তাই ৫০টি ক্লাব যদি আপত্তি জানিয়ে থাকে, তাহলে এর বেশি আর নতুন করে কিছু বলার দরকার নেই।’
মোহামেডান ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জুমান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিসিবিতে এত খারাপ পরিস্থিতিতে নির্বাচন আর কখনো হয়নি। আমরা মাঠের মানুষ মাঠে ফিরতে চাই। ১৭-১৮ বছর পর দেশে এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাই আমরা ন্যায়বিচারের আশায় তদন্তের আবেদন করেছি। এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে এবং আমরা মনে করি এখনই কথা বলার সঠিক সময়। এই কারণেই আমরা আবেদন করেছি। আমরা আশা করি, সরকারের পাশাপাশি আদালতের কাছ থেকেও আমরা ন্যায়বিচার পাব।’
সাবেক বিসিবি পরিচালক ফাহিম সিনহা জানিয়েছেন, বিসিবির নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন করেছেন তারা এবং সেটি কীভাবে কাজ করবে এর দায়িত্ব ছেড়েছেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে। ফাহিম বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন করেছি। সেখানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একজন প্রতিনিধি থাকতে পারেন। কমিটির গঠন কিভাবে হবে, সেটি সরকার ঠিক করবে।’


