পরিবারের সাথে অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় মাস দেড়েকের ছুটি কাটিয়ে রোববার দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দেশে ফিরেই ছুটে গেছেন বিসিবি কার্যালয়ে, দেখা করেছেন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেটারদের সাথে। তবে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিসিবির সাম্প্রতিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির জন্য।
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়ম আর কারচুপির অভিযোগ তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যের এক স্বাধীন কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সেই কমিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, আইসিসির কাছে এই সিদ্ধান্ত নিয়ম বহির্ভূত হস্তক্ষেপ বলে মনে হতে পারে। এবং এতে দেশের ক্রিকেটের স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলতে পারে। এতদিন দেশের বাইরে থাকায় বিসিবি সভাপতির বক্তব্য জানা যায়নি।
তবে রোববার বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে বুলবুল জানান, সাম্প্রতিক তদন্ত কমিটি, পরিচালকদের পদত্যাগের পরেও কোনো মতবিরোধ তিনি দেখছেন না বিসিবিতে। এমনকি কোনো সংকট আছে বলেও তিনি মনে করেন না।
এসব কাটিয়ে উঠতে কতটা আশাবাদী? এই প্রশ্নের জবাবে বুলবুল বলেন, ‘আমি কোথাও কোনো সংকট দেখছি না। বোর্ড তার নিজস্ব নিয়মে স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় দল খেলছে আর মেয়েদের দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। কোথাও কোনো সংকট নেই। এটা তো নির্বাচিত কমিটি। সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বোর্ড চলছে। এ ধরনের প্রশ্ন আমরা আশা করি না।’
এনএসসির স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের পর উদ্বেগ জানানো নিয়েও বিসিবির অবস্থান পরিস্কার করেছেন বুলবুল। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় বিবৃতির ব্যাখ্যাটা একটু ভুল ছিল– মুখোমুখি যেটা বলা হচ্ছে; আমরা তো একটা স্বায়ত্তশাসিত সংগঠন। এ ধরনের সংগঠন যখন স্বাধীনভাবে কাজ করে, তখন মনে হচ্ছিল সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে হয়তো দেখা হতে পারে আপনি যদি বিবৃতিটা ভালো করে দেখেন, সেখানে লেখা ছিল হতে পারে, তার মানে এই না যে হয়েছে। পূর্ব সতর্কতা হিসেবে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।’
বুলবুলের দেশে ফেরা নিয়ে গেল ১৬ ফেব্রুয়ারির পর থেকে নানান ধরনের গুঞ্জন শোনা গেছে। ক্রিকেট পাড়ায় এমন আলোচনাও ছিল, বুলবুল হয়তো আর ফিরবেন না। যদিও এর নেপথ্যে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিসিবির সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন নানান কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। সম্ভাব্য কারচুপির অভিযোগ এনে সরে দাঁড়ান ১৯-জন পরিচালক পদপ্রার্থী। সেই জেরে স্থবিরতা কাজ করছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে। ৪২টি ক্লাব বিসিবির অধীনে বয়কট করেছে সব ধরনের টুর্নামেন্ট। এর মধ্যে বিসিবির সাবেক দুই পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেনের পদত্যাগের পরও শোনা গেছে ভাঙনের সুর।
বিসিবি নির্বাচনের সময় হওয়া নানান অনিয়ম খতিয়ে দেখতে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল-সহ প্রায় ৫০ জন ক্লাব প্রতিনিধি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) চিঠি দেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিসিবি নির্বাচনে কোনো অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে এনএসসি। ইতোমধ্যে বিসিবির নির্বাচিত পরিচালক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অনেককেই ডেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছে তদন্ত কমিটি।
গত ১১ মার্চ এনএসসি জানিয়েছিল, ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে তদন্ত কমিটি। তবে রমজান ও ঈদের ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এদিকে গুঞ্জন আছে, অভিযোগ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো প্রমাণ পেলে ভেঙে দেয়া হতে পারে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। বিসিবির এক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, এমনটা হলে গঠন করা হতে পারে অ্যাড-হক কমিটি।


