বাগেরহাটে স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তানের মৃত্যুর পাঁচদিন পরে বাড়ি ফিরেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম।
বুধবার রাতে বাড়িতে পৌঁছেই সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্ত্রী-সন্তানের কবরের কাছে যান তিনি। সেখানে শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদার ও শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভসহ অন্যদের সঙ্গে নিয়ে স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত করেন সাদ্দাম।
এসময় স্ত্রী-সন্তানের কবরের মাটি ছুয়ে অঝোরে কাঁদেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানের রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাতও করেন।
মোনাজাতে আল্লাহর উদ্দেশে সাদ্দাম বলেন, ‘আমি এক হতভাগা স্বামী, আমি এক হতভাগা বাবা। আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি। (আল্লাহ) তুমি আমার স্ত্রী-সন্তানকে ক্ষমা করে দাও। আমার স্ত্রী যদি হত্যার শিকার হয়ে থাকে তাহলে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তার বিচারের ব্যবস্থা করো।’
জুয়েল হাসান সাদ্দাম কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় গত ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সেদিন দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর পড়েছিল ৯ মাসের শিশু নাজিম।
পুলিশ ও সাদ্দামের পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী।
স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নিতেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি সাদ্দামকে।
পরদিন সন্ধ্যায় সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাফটকে নিয়ে যান স্বজনরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখতে সাদ্দামকে পাঁচ মিনিটের মতো সময় দেওয়া হয়।
রাতে কবর জিয়ারতের পর সেখানে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাদ্দাম।
তিনি বলেন, ‘আমাকে যশোর কারাগারে দেওয়ার পর আমার স্ত্রী মনে করেছে, আমি আর কখনও বের হতে পারব না। আমি মনে করি এটা পরিকল্পিত হত্যা। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
অনেকবার জামিন আবেদন করলেও জামিন মেলেনি জানিয়ে সাদ্দাম বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে কোলে নিতে পারিনি। এখন আমার স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো।’
নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সাদ্দাম। পাশাপাশি কারাগারে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ১৫ দিনের বদলে সাত দিন করারও দাবি জানান।
এর আগে দুপুর দুইটার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান জুয়েল হাসান সাদ্দাম।
গত সোমবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন ফৌজদারি বেঞ্চ তার ৬ মাসের জামিন দিয়েছে।


