‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষ করে শুধু বীজ আমদানি খাতেই বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব। বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে দেশি বীজে উন্নত মানের পাট চাষ করলে কৃষকেরা লাভবান হবেন। এটি জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ও এই জাতের উদ্ভাবক কৃষিবিজ্ঞানী ড. ফাহমিনা ইয়াসমিন এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বিনা উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাত ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষাবাদ জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে মাগুরায় একটি মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক এই পাট চাষের মাধ্যমে দেশের বীজ আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার সকালে মাগুরা সদর উপজেলার মঘিগ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিনার কর্মকর্তাসহ জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রায় ১০০ কৃষক অংশ নেন।
বিনা উপকেন্দ্র মাগুরার ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সুসান চৌহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ বিনা কার্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান মো. হাবিবুর রহমান, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ নুরুন্নবী মজুমদার, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ সৈকত হোসেন ভূঁইয়া, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক আক্কাস হোসেন, কৃষক ভক্ত বিশ্বাস ও খবির হোসেন।
পাটচাষি খবির হোসেন জানান, সাধারণ ভারতীয় জাতের পাট চাষ করে তিনি বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ মণ পাট উৎপাদন করতেন। ‘বিনা তোষাপাট-১’ চাষে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। পাটের গাছ অনেক লম্বা ও স্বাস্থ্যবান। আঁশের মান বিবেচনায় এবার বিঘাপ্রতি কমপক্ষে ২০ মণ পাট পাবেন বলে তিনি আশা করছেন।
আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, প্রতি বছর পাট চাষের মৌসুমে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার পাটবীজ আমদানি করতে হয়। বিদেশি বীজে অনেক সময় ভেজাল থাকে ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সঠিক অঙ্কুরোদগম হয় না। দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত এই নতুন জাতের সম্প্রসারণ ঘটানো গেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব। কৃষকেরা নিজেদের দেশেই উন্নত মানের বীজ উৎপাদন করতে পারবেন।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নতুন এই জাতটি সাধারণ জাতের তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা। ডালপালা কম হওয়ায় উৎপাদন বেশি হয় ও বাজারে ভালো মূল্য পাওয়া যায়। হেক্টরপ্রতি গড় আঁশের ফলন প্রায় ৪ দশমিক ১৭ টন, প্রচলিত অন্যান্য জাতের তুলনায় অনেক বেশি। বীজ বপনের মাত্র ১১৮ দিনের মধ্যে এই ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করার সঙ্গে বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধে জাতটি অত্যন্ত কার্যকর। জীবনকাল কম হওয়ায় এই পাট চাষে সার ও সেচের খরচ অনেক কম লাগে।


