হাঁড়িভাঙ্গা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাত শুরু

হাঁড়িভাঙ্গা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাত শুরু
রংপুরের পদাগঞ্জে একটি বাগানে আম ছিঁড়ে হাড়িভাঙ্গার আনুষ্ঠানিক বাজারজাতের উদ্বোধন করেন ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাতকরণ শুরু হলো রংপুরের ঐতিহ্যবাহী জিআই পণ্য ‘হাঁড়িভাঙ্গা’ আমের।

সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকার একটি আমবাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পেড়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

উদ্বোধন শেষে পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক। পরে তিনি হাঁড়িভাঙ্গা আমের প্রধান বিপণন কেন্দ্র ‘পদাগঞ্জ হাট’ পরিদর্শন করেন এবং সরাসরি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা পদাগঞ্জ হাটের অনুন্নত রাস্তাঘাট, ব্যাংক সুবিধার অভাব, হাটে পর্যাপ্ত শেড ও ওয়াশ ফ্যাসিলিটি না থাকা এবং একটি হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) স্থাপনের দাবি জানান। একই সঙ্গে জিআই পণ্য হিসেবে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে হাঁড়িভাঙ্গা আমের অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, ওয়াশ ব্লক তৈরি এবং ব্যাংকের শাখা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়াও আম পরিবহনের সুবিধার্থে ম্যাঙ্গো ট্রেনের ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন

এদিকে বাজারজাতকরণের প্রথম দিনেই পদাগঞ্জ হাটে বিপুল পরিমাণ হাঁড়িভাঙ্গা আমের আমদানি দেখা গেছে। তবে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি থাকায় বেচাবিক্রি কিছুটা দেরিতে জমে ওঠে। হাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানভেদে প্রতি মণ আম ১৪০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, এবার মৌসুমের শুরুতে শিলাবৃষ্টির কারণে বিপুল পরিমাণ হাঁড়িভাঙ্গা আম ঝরে গেছে, যার ফলে ফলন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে সঠিক ও ন্যায্য দাম না পেলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে চাষিদের আশ্বস্ত করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আমের ফলন কিছুটা কম হলেও আকারে বেশ বড় হয়েছে। আশা করছি কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন। শুরুর দিকে দাম সামান্য কম মনে হলেও বাজারের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন আমের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম, মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম। এ ছাড়াও কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ কে এম রাকিবুল হাসান ফেরদৌসসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, চাষি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad