একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা তোলার শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী আমানত আটকে থাকার সময় কমানোর পাশাপাশি আমানতের বিপরীতে ঋণসুবিধা দ্বিগুণ করা হয়েছে। চিকিৎসা, শিক্ষা ও জরুরি প্রয়োজনেও টাকা তোলার বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধিত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫’ জারি নতুন নির্দেশনা কার্যকর ঘোষণা করেছে।
এই স্কিমের আওতায় রয়েছে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর সম্পদ, দায় ও মানবসম্পদ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে হস্তান্তর করা হচ্ছে ধাপে ধাপে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ব্যক্তিগত আমানতকারীদের স্থায়ী আমানতের ক্ষেত্রে। আগের স্কিমে এক বছরের বেশি মেয়াদের আমানতকে মেয়াদভেদে তিন, চার বা পাঁচ বছর পর্যন্ত আটকে রাখার বিধান ছিল।
সংশোধিত স্কিমে এক বছরের বেশি মেয়াদের স্থায়ী আমানতকে মেয়াদপূর্তি অথবা ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর, যেটি পরে হবে, সেই তারিখ থেকে দুই বছর মেয়াদি আমানত হিসেবে গণ্য করা হবে। তিন, চার ও পাঁচ বছরের পুরোনো স্তরগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিবার মেয়াদি আমানত নবায়নের সময় গ্রাহক চাইলে ওই সময় পর্যন্ত অর্জিত মুনাফা তুলতে পারবেন।
আগের স্কিমে বিশেষ ছাড় মূলত কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যানসার আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য ছিল। নতুন স্কিমে এর পরিধি বাড়িয়ে হিসাবধারী নিজে অথবা তার স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা এবং ছেলে-মেয়ের চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জরুরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে টাকা তোলার বিধিনিষেধ আংশিক বা পুরোপুরি শিথিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
হজের জন্য জমা রাখা অর্থের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। হজ সঞ্চয়ী স্কিমের আমানত অথবা চূড়ান্ত হজ নিবন্ধনের প্রমাণ থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাব থেকে হজ এজেন্সি বা সরকারকে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে সাধারণ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধার সীমাও দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি ছাড়া অন্য স্থায়ী আমানতকারীরা আমানতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারতেন। এখন তা বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।
নতুন স্কিমে সঞ্চয়পত্র ও রেমিট্যান্সের পাওনা যথারীতি পরিশোধেরও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে আমানতের মুনাফা হিসাবেও নতুন শর্ত এসেছে। পাঁচ ব্যাংক কোনো বছরে নিট মুনাফা অর্জন করলে শরিয়াহ অনুযায়ী ওই বছরের আমানতের বিপরীতে মুনাফা হিসাব করা হবে। নিট মুনাফা না হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে নির্দিষ্ট শ্রেণির আমানতকারীদের ‘ইহসান’ হিসেবে আর্থিক সুবিধা দেওয়া যাবে। প্রয়োজনে এ হিসাব আগের সময়ের জন্যও প্রযোজ্য করা যাবে।
ডিপিএস ধরনের আমানতের ক্ষেত্রেও নতুন বিধান যোগ হয়েছে। মেয়াদপূর্তির পর দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষিত আমানত তোলা গেলেও অবশিষ্ট অর্থ কমপক্ষে দুই বছর মেয়াদি স্থায়ী আমানতে রাখতে হবে। মেয়াদপূর্তির আগে ডিপিএস ভাঙলে জমা করা আসলের ওপর কোনো মুনাফা মিলবে না এবং সেই আসলও দুই বছরের স্থায়ী আমানতে রূপান্তরিত হবে। অর্থাৎ মুনাফা পেতে হলে এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের ডিপিএসের কিস্তি চালিয়ে যেতে হবে।
সংশোধিত স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি পরিস্থিতি, জনস্বার্থ, আর্থিক স্থিতিশীলতা বা আমানতকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় আমানত তোলার বিধিনিষেধ কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির জন্য আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ শিথিল করার ক্ষমতাও নিজের হাতে রেখেছে।


