পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে চালু হয়েছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে একজোড়া নতুন ট্রেন।
সোমবার বিকালে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে (কমলাপুর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই ট্রেনের শুভ উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান সরকার নিরাপদ, সাশ্রয়ী, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রেলসেবা সম্প্রসারণকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মধ্যে কার্যকর কমিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তনগর রেলসেবার সম্প্রসারণেও নেওয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ।
পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যেই ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে এই একজোড়া নতুন ট্রেন চালু করা হলো।
এই ট্রেনের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ ও মধ্যবর্তী এলাকার চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা প্রতিদিন স্বল্প ব্যয়ে ও নির্ভরযোগ্যভাবে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন এবং কর্মদিবস শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারবেন।
ফলে রাজধানীমুখী স্থায়ী আবাসনের প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং ঢাকার আবাসন, যানজট ও নগরসেবার ওপর বিদ্যমান চাপ কমাতে তা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার শাকসবজি, কৃষিপণ্য, মাছ এবং অন্যান্য স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য দ্রুত ও তুলনামূলক কম ব্যয়ে ঢাকার বাজারে পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে এবং উৎপাদক ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।
১৩৫ নম্বর ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকেল ০৩:৩০ মিনিটে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ০৬:৪৫ মিনিটে।
অন্যদিকে, ১৩৬ নম্বর ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ গোপালগঞ্জ থেকে রাত ০৭:১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ১০:২৫ মিনিটে। ৮টি কোচবিশিষ্ট এই ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা ৬৩০টি। ঢাকা-গোপালগঞ্জ ১৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে মোট ৭টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকবে। স্টেশনগুলো হলো—কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানী জংশন। প্রতি শনিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।
ট্রেনটির প্রথম যাত্রায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কে এম বাবর ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।


