এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সাতক্ষীরা জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের নিম্ন মাধ্যমিক ও নৈশ বিদ্যালয় রয়েছে।
সোমবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়, আশাশুনি উপজেলার গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয় এবং শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়।
ফলাফলের বিষয়ে সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান জানান, সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে তার জানা নেই, অনলাইন নথি দেখে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা জানান, এ বছর তাদের বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি।
দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নূর হোসেন প্রতিষ্ঠানের করুণ চিত্র তুলে ধরে জানান, ২০০১ সাল থেকে শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পান না। কাগজে-কলমে আটজন শিক্ষক থাকলেও তারা স্কুলে আসেন না। অফিস সহকারী হিসেবে তিনি একাই স্কুলটি টিকিয়ে রেখেছেন। গত বছর পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন পাস করলেও এবার চরম বিপর্যয় ঘটেছে।
শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এ বছর সারা দেশের ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।


