জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা বিষয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে মেডিকেল সেন্টার ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আমীর হোসেন।
তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সুষম জীবনযাপনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা রাত জেগে ফেসবুকিং করি, সকালে না খেয়ে ক্লাসে চলে যাই। যার ফলে আমাদের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ও শারীরিক স্বাস্থ্য ব্যাহত হচ্ছে। শুধু বাহ্যিক উন্নয়ন বা ক্যারিয়ার নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নিয়ে প্রতিদিনের সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। নিজেদের সচেতনতা ও ইতিবাচক জীবনযাত্রাই আমাদের মানসিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখবে।’
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি জামালপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণেরাই আমাদের আগামী দিনের মূল সম্পদ। এই সম্পদকে সুস্থ রাখতে আমরা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চিকিৎসাসেবা ও সহযোগিতা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দ্রুত পৌঁছানোর জন্য জাবিপ্রবির মেডিকেল সেন্টারের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. আসমা সরকার সূচনা। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রোটিন ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), ডিহাইড্রেশন এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার নানা দিক নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় পিসিওএস, শারীরিক কসরতের গুরুত্ব এবং অতিমাত্রায় স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরে তিনি সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন।
আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ শাহজালালের সভাপতিত্বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. নীলিমা নাসরীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী হোসেন, রেজিস্টার মো. সারওয়ার জাহান এবং মুখ্য আলোচক ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সুঅভ্যাস গড়ে তোলা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া এবং ক্যাম্পাস পর্যায়ে স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন৷


