চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ১৩তম দিনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সহকারী অধ্যাপক সামিউন বাসির জানান, শনিবার চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনায় অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনায় চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিনিধিবৃন্দ দাবিটির পক্ষে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যুক্তি ও বাস্তবতাও তুলে ধরেন।’
সামিউন বাসির আরও বলেন, ‘সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত ধৈর্য, আন্তরিকতা ও পর্যাপ্ত সময় নিয়ে শুনেছেন এবং প্রতিনিধিদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।’
তিনি আশা করেন, উপস্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এদিকে আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনের ১৩ দিনে শিক্ষার্থীরা মিছিল, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর, লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, গ্রাফিতি, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। সবশেষ ছুটির দিনেও উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দীর্ঘ ১৩ দিনের আন্দোলনের পর সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে প্রতিনিধিদের আলোচনার তথ্য সামনে আসায় চুয়েটের চলমান সংকট সমাধানে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।


