জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়।
সোমবার গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় শিফটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১০২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি জানায়, আটক শিক্ষার্থীর নাম মো. মাহমুদুল্লাহ হাসান। তিনি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার আকাশকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পরীক্ষা চলাকালে গোপনে মোবাইল ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর বের করে ওএমআর শিট পূরণ করছিলেন তিনি।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকের সন্দেহ হলে বিষয়টি দ্রুত প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানো হয়। পরে তাকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে মাহমুদুল্লাহ স্বীকার করেন, এর আগেও গত ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জীববিজ্ঞান অনুষদের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় একই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন তিনি।
সেদিন রসায়ন বিভাগের ৪০১ নম্বর কক্ষে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে উত্তর সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ২৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ওই ইউনিটে মেধাতালিকায় ২৪২তম স্থান অর্জন করেছেন।
জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ফলাফল বাতিল করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, ওই শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাকে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী সাজা ভোগের জন্য কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


