প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, সিদ্ধান্ত নিতে বাধা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শেখ জিসান আহমেদ।
শুক্রবার বিকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের এসব কারণ তুলে ধরেন তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া অপর এক পোস্টে আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে জিসান উল্লেখ করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা প্যানেলের ব্যানারে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করেছিলেন এবং সে পরিবেশ না পেলে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত আগে থেকে নেওয়া ছিল।
অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নির্বাচন নিয়ে বারবার প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্রে (টিএসসি) শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে উপস্থাপকের তালিকা চূড়ান্ত করার পরও তা কয়েক দফায় পরিবর্তন করা হয়।
এমনকি অনুষ্ঠান শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে আরও দুজনকে যুক্ত করার নির্দেশ আসে। শেষ পর্যন্ত সাতজন উপস্থাপক দিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়, যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, এ ঘটনার কারণে একজন উপস্থাপক ভবিষ্যতে আর সঞ্চালনা না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং অপর একজন অপমানিত বোধ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জিসান আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান চলাকালে প্রশাসনের নির্দেশে অচেনা কয়েকজন ছাত্রনেতার নাম মাইকে ঘোষণা করতে হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অসন্তোষের মুখে তাকে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে নিজেকে অন্যের ইচ্ছামতো পরিচালিত ‘দাবার গুটি’ মনে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে থেকে স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাননি এবং প্রশাসন তার মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে কাজের পরিবেশ বিনষ্ট করেছে বলে দাবি করেন জিসান। তিনি জানান, হাতে ফ্র্যাকচার থাকা সত্ত্বেও টানা ১৫ দিন চেষ্টা করলেও তার পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
রাজনৈতিক ক্ষমতার চেয়ে আত্মমর্যাদাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।


