জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সংস্কার, বিচার এবং পতিত স্বৈরাচারী শক্তিকে প্রতিরোধের প্রশ্নে সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার বিকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সংস্কারের প্রশ্নে যেমন তারা জুলাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, বিচার ও পতিত স্বৈরাচারী শক্তিকে ঠেকানোর প্রশ্নেও এই সরকার আপসকামী। সরকার যদি আপসকামী হয়, জনগণ বসে থাকবে না।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কারের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তার অভিযোগ, সরকার গণভোটের রায়কে সম্মান জানায়নি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দলীয়ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।
সরকারি উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে ইতিহাস বিকৃতি, দলীয়করণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার অভাব ছিল। তিনি দাবি করেন, যেভাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয়করণ করেছিল, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি কর্মসূচিতে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
দিল্লিতে অবস্থানরত “পতিত স্বৈরাচারী শক্তি” সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ পাওয়াকে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনকে তলব করে সরকারের কঠোর প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল।
সরকার গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার তার বৈধতা (লেজিটিমেসি) হারিয়েছে। তার মতে, সরকার জনগণের আস্থা হারিয়েছে, যার ফলে একটি সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরকার-সমর্থিত শক্তির দখলদারত্বের অভিযোগ এনে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার না হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। এমনকি বর্তমান সরকারের মধ্যেও স্বৈরাচারী প্রবণতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবি বাস্তবায়ন না করলে সরকারের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।


