দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার

দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: ডিএমপির সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তুলিয়া আক্তার ওরফে সুমি, দুলালী ওরফে মীম, মো. ওমর ফারুক, মো. শফিকুল ইসলাম শান্ত, মো. সজল তালুকদার, ইয়াছিন, মো. নাছির খান, সাদ্দাম, মেহেদী হাসান শাহরিয়া, আজিজুল হাকিম টুটুল, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. রাব্বি।

যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে সায়েদাবাদ জনপদ মোড় এলাকা থেকে চক্রের সদস্যরা দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটক রাখে এবং মারধর করে। এ সময় অজ্ঞাত দুই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখা হয়। পরে অপহৃতদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে ছবি পরিচিতজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ছাড়া অপহৃতদের মানিব্যাগে থাকা নগদ ৪৮ হাজার টাকা, দুই ভরি ওজনের রূপার চেইন, একটি হীরার আংটি এবং বিকাশ ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে মোট ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

অন্য এক ঘটনায় জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলিয়া আক্তার সুমির সঙ্গে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। পরে সুমি তাকে দেখা করার অনুরোধ করলে ১৫ ডিসেম্বর ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার হোসেন প্লাজার সামনে তাদের সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাতের পর সুমি ভুক্তভোগীকে বাসায় নিয়ে যান। বাসায় প্রবেশের ১০ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাত ৬-৭ জন ব্যক্তি তাকে মারধর করে আট লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

আরও পড়ুন

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি সঙ্গে থাকা নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, এক ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের আংটি এবং পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা এনে দেন। পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বাদী মোখলেছুরের অভিযোগে ১৩ জানুয়ারি ডেমরা থানায় একটি মামলা করা হয়।

পৃথক দুই ঘটনার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃতরা একই চক্রের সদস্য। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানার একাধিক দল ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে ফাঁদে ফেলত এবং নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিত।

চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর