আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভীতি সঞ্চার করে ভোটার উপস্থিতি কমানোর অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা, খুন, বোমা বিস্ফোরণ কিংবা অস্ত্র প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে জনমনে ভীতি তৈরি করতে চাইছে। মূল লক্ষ্য হলো ভোটার টার্নআউট কমানো।’
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন সিএমপি কমিশনার।
হাসিব আজিজ বলেন, ‘পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সাধারণ ভোটার, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার বোধ তৈরি করা। নিরাপত্তার চাদরে ভোটকেন্দ্র ও নগরীকে ঢেকে দিতে পারলে নির্বাচনের দিন সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব।’
নির্বাচনকে সামনে রেখে নগরীতে স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, থানাগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ বার করে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। র্যান্ডম চেকিং জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তল্লাশি চলছে। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কমিশনার থেকে কনস্টেবল সবাই মাঠে থাকবে। ব্যারাকে বসে থাকার মতো ফোর্স রাখা হয়নি।
প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান সিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, নির্বাচন–পরবর্তী সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় ভোটের পরও অন্তত সাত দিন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রায় ৮০ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। বাকি অস্ত্রগুলোর একটি অংশ পাহাড়ি এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হাতে থাকার তথ্য রয়েছে।’
এসব অস্ত্র নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে না দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি আছে, উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দাগী অপরাধীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলমান জানিয়ে হাসিব আজিজ বলেন, অনেক ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে, অস্ত্রসহ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশের সাফল্য–ব্যর্থতা থাকলেও প্রকৃত মাপকাঠি হলো জনগণের মধ্যে নিরাপত্তার বোধ তৈরি করা। একজন সম্মানিত নাগরিকের মন থেকে অপরাধজনিত ভীতি দূর করাই একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রকৃত সাফল্য।
সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বন্ধুত্ব থাকতেই পারে বলে মনে করেন হাসিব আজিজ। কিন্তু পেশাদারত্বের ক্ষেত্রে এই দুই পক্ষের মধ্যে খুব বেশি ‘খাতির’ বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত নয় বলেও মত দেন তিনি।
তার মতে, এই দুই পেশাজীবীর মধ্যে একটি দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক বা ‘অ্যাডভারসারিয়াল রিলেশনশিপ’ থাকাই রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক।
সাংবাদিকদের কাছে তিনি নিজের ও পুলিশ বাহিনীর কাজের গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করেন বলেও জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে ও চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈম, প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ, কার্যকরী সদস্য সালেহ নোমানসহ অন্যরা।


