বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আড়াই মাসে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ জনমনে আশার সঞ্চার করলেও নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি’।
শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত ‘পর্যালোচনা, উদ্বেগ ও দাবিনামা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা জানানো হয়।
সংগঠনটির মতে, ভিভিআইপি প্রটোকল কমানো, সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধা ত্যাগ, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষিঋণ মওকুফ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে একই সঙ্গে নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশন, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ, ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনুগত ব্যক্তিদের বসানোর প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংক খাতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে জনজীবনে চাপ বেড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চাঁদাবাজি, দখল এবং সহিংসতার অভিযোগ বেড়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে দুর্বলতা, হামের প্রাদুর্ভাব এবং প্রশাসনের ধীর প্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিদেশি চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। বিশেষ করে বিনা টেন্ডারে বড় অঙ্কের টাকায় বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশিত অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, বিএনপি সরকারের এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে, তারাও যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বদলে পুরনো নীতি, প্রবণতা, সংস্কৃতি অব্যাহত রাখতেই আগ্রহী বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।


