শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ

শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ
শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সিল ও মেয়াদবিহীন পাউরুটি, নিম্নমানের পচা কলা সরবারহের অভিযোগ উঠেছে। খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা। একই হাসপাতালে কোথাও এক পিস, কোথাও দুই পিস কলা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।

রোববার সকালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীদের নাশতা বিতরণের সময় এসব অভিযোগ সামনে আসে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের জন্য মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম, তদারকির ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনা চলছে।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী আব্দুর রহমান বলেন, ‘সকালে দেওয়া পাউরুটি মুখে দেওয়ার পর দুর্গন্ধ পাই। পরে আর খাইনি। মোড়কে কোনো সিল বা উৎপাদনের তারিখ ছিল না। কলাটাও ছিল নিম্নমানের।’

শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর স্বজন ফয়সলের অভিযোগ, তাদের ওয়ার্ডে একটি করে কলা দেওয়া হলেও অন্য ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছে দুইটি করে। ‘একই হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে এমন বৈষম্য কেন?’- প্রশ্ন তার।

আরেক ভুক্তভোগী চা শ্রমিক দিপালী বলেন, ‘একটি কলা আর সিলবিহীন বনরুটি পেয়েছি। রোগীদের সঙ্গে এমন আচরণ কষ্টদায়ক।’

আরও পড়ুন

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু খাবার নয়, হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে। রোগী ও স্বজনরা বাথরুমের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পানি সংকট এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তুলী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী পাকিজ মিয়া আংশিক সত্যতা স্বীকার করেছেন। তার দাবি, কেবল একদিনের খাবারেই উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছিল ন।

তিনি বলেন, ‘আজকের পাউরুটিতে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও সিল ছিল না। স্থানীয় একটি বেকারি থেকে পাউরুটি আনা হয়েছিল। কলা প্রথমে এক পিস দেওয়া হয়েছিল, পরে দুই পিস করে দেওয়া হয়েছে। আগের দিন কেনা হওয়ায় কিছু কলা নষ্ট হয়ে থাকতে পারে।’

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার নিশাত নাওয়াল মুমু বলেন, ‘একজন রোগী অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘নিম্নমানের কলার বিষয়ে জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেয়াদবিহীন পাউরুটির বিষয়টি এখনো জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হবে।’

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে নিম্নমান বা মেয়াদবিহীন খাদ্য পরিবেশন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সরকারি অর্থে পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে রোগীদের খাবারের মান ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনা ও দুর্বল তদারকির কারণে তারা পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad