দেশের বাজারে নতুন হাইব্রিড এসইউভি (স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল) সিরিজ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে এমজি বাংলাদেশ।
শনিবার ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমজি এইচএস হাইব্রিড প্লাস এবং এমজি এইচএস সুপার হাইব্রিড মডেল উন্মোচন করা হয়।
দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পথে এটিকে এমজির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন হাইব্রিড এসইউভিগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ লাখ টাকা থেকে। এমজি জানিয়েছে, জ্বালানি দক্ষতা, কম কার্বন নিঃসরণ এবং দেশের দৈনন্দিন ব্যবহার উপযোগী আধুনিক সুবিধার সমন্বয়ে এই মডেলগুলো তৈরি করা হয়েছে।
এমজি এইচএস হাইব্রিড প্লাস মডেলটি দৈনন্দিন ব্যবহার ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রয়েছে স্মার্ট হাইব্রিড পাওয়ার সিস্টেম, যা সর্বোচ্চ ২২১ দশমিক ৩ বিএইচপি শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।
চালনার পরিস্থিতি অনুযায়ী গাড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ ও পেট্রোল মোডের মধ্যে পরিবর্তন করে। বাস্তব ব্যবহারে এই মডেলের জ্বালানি দক্ষতা লিটারপ্রতি প্রায় ২৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে এমজি, যা শহরের ভেতর ও দীর্ঘ ভ্রমণ–উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকর।

অন্যদিকে, ৫৯ লাখ টাকা মূল্যের এমজি এইচএস সুপার হাইব্রিড মডেলটি প্লাগ ইন হাইব্রিড প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। এতে রয়েছে ২৪ দশমিক ৭ কিলোওয়াট আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি, যা একবার সম্পূর্ণ চার্জে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ১২০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ চলতে সক্ষম।
দৈনন্দিন স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে এই মডেলে কোনো কার্বন নিঃসরণ হয় না। ব্যাটারি ও পূর্ণ জ্বালানি ট্যাংকের সম্মিলিত ব্যবহারে গাড়িটির মোট চলার সক্ষমতা ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।
এই মডেলের সঙ্গে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে ৭ দশমিক ৪ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি হোম চার্জিং স্টেশন বিনামূল্যে দিচ্ছে এমজি বাংলাদেশ। এর জন্য ক্রেতাদের কোনো অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে না।
উন্মোচন অনুষ্ঠানে এমজি বাংলাদেশ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসেন মাশনুর চৌধুরী বলেন, আজকের এই আয়োজন শুধু নতুন দুটি গাড়ি বাজারে আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশের টেকসই ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গঠনে এমজির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, এইচএস হাইব্রিড প্লাস ও এইচএস সুপার হাইব্রিড মডেলের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি, উচ্চ জ্বালানি দক্ষতা এবং প্রিমিয়াম স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা হাইব্রিড এসইউভি খাতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।
এমজি বাংলাদেশ নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রশিদ ভূইয়া বলেন, নতুন এই হাইব্রিড মডেলগুলো এমজির উদ্ভাবনী ধারাবাহিকতাকে ধরে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের ইতিবাচক সাড়া প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখন পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্ট মোবিলিটির জন্য প্রস্তুত এবং এইচএস সিরিজ সি সেগমেন্ট এসইউভি বাজারে প্রত্যাশার নতুন মাপকাঠি তৈরি করবে।

ডিজাইন ও ফিচারের দিক থেকেও নতুন এইচএস সিরিজে আধুনিকতার ছোঁয়া রাখা হয়েছে। গাড়ির ভেতরে রয়েছে ১২ দশমিক ৩ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট টাচস্ক্রিন এবং একই আকারের ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, যা নেভিগেশন, কানেক্টিভিটি এবং ব্যবহারবান্ধব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
২ হাজার ৭২০ মিলিমিটার হুইলবেসের কারণে গাড়ির ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৭৬ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স থাকায় দেশের বিভিন্ন ধরনের সড়ক পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানো সহজ হবে।
বাহ্যিক নকশায় রয়েছে ১৯ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল, এলইডি লাইটিং এবং এমজির বৈশ্বিক এসইউভি ডিজাইনের বৈশিষ্ট্য।
নিরাপত্তা ও ব্যবহারিক সুবিধার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এইচএস সিরিজে। গাড়িগুলোর বুট স্পেস প্রায় ৫০৭ লিটার, যা সিট ভাঁজ করলে ১ হাজার ৪৮৪ লিটারের বেশি করা সম্ভব।
স্ট্যান্ডার্ড নিরাপত্তা ফিচারের মধ্যে রয়েছে ৭টি এয়ারব্যাগ, এমজি পাইলট অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম লেভেল ২, পিএম ২ দশমিক ৫ এয়ার ফিল্ট্রেশন সিস্টেম এবং উন্নত মানের মাল্টি স্পিকার সাউন্ড সিস্টেম।
এসব সুবিধা যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে এমজি বাংলাদেশ।


