কোরবানির বাজার ধরতে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা

কোরবানির বাজার ধরতে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর বাজার ধরতে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা। খামারগুলোতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার গবাদিপশু। যা চাহিদার তুলনায় অন্তত ১৫ হাজার বেশি বলছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। গরু-ছাগলের পাশাপাশি এবার যশোরে উট, দুম্বা ও মহিষও প্রস্তুত করেছেন যশোরের খামারিরা।

কোরবানিকে সামনে রেখে যশোরের শার্শার নাসির এগ্রোতে এবার সাতটি উট লালন করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে দুটি বিক্রি হয়েছে। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বছর জুড়ে লালন-পালনের পর একেকটি উট অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। মাংস হয় গড়ে ৩০-৩২ মণ। উটগুলো ঢাকা, চট্টগ্রামের হাটে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

খামারি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘মরুভূমির এই প্রাণী আমাদের দেশের আবহাওয়ায় লালন-পালন করা বেশ কঠিন এবং ব্যয়বহুল। তবে আমরা অত্যন্ত যত্নের সাথে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উটগুলো বড় করেছি। দেশেই উটের বেশ ভালো চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের শৌখিন ক্রেতারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং ভালো দাম পেলে বাকি উটগুলোও লাভজনকভাবে বিক্রি করা সম্ভব হবে।’

যশোরের ৮ উপজেলার ১৬ হাজার নিবন্ধিত পশুর খামারের পাশাপাশি আরও অন্তত ১৫ হাজার কৃষক কোরবানির পশুর পরিচর্যায় শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় পার করছেন। খামারগুলোতে দেশি গরু ছাড়াও নজর কাড়ছে বিশাল আকৃতির শাহিওয়াল, সিন্ধি এবং ফ্রিজিয়ান জাতের গরু।

ইমরান হোসেন নামে এক খামারি বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করিনি। খইল, ভুসি, কাঁচা ঘাস আর খড় খাইয়েই পশুকে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। তবে বাজারে পশুখাদ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে এবার উৎপাদন খরচ অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি। এখন হাটে যদি ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ না করে এবং খামারিরা সঠিক মূল্য পায়, তবেই বছর শেষের এই কষ্ট সার্থক হবে।’

আরও পড়ুন

আরেক খামারি মোজাফফর জানিয়েছেন, এবার হাটের ঝক্কি-ঝামেলা আর অতিরিক্ত হাসিল এড়াতে অনেক ক্রেতাই সরাসরি খামারে চলে আসছেন। তারা আগেভাগেই পছন্দের পশুটি কিনে আমাদের এখানেই রেখে যাচ্ছেন। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পশুর দেখভাল ও খাওয়া-দাওয়ার খরচ ক্রেতারাই বহন করছেন। এতে আমাদেরও নগদ টাকা হাতে আসছে, আবার ক্রেতারাও নিশ্চিন্তে থাকছেন।

আরজু শিকদার নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘হাটে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে কাদা-পানিতে ঘোরাঘুরির চেয়ে খামার থেকে সরাসরি কেনা অনেক সুবিধাজনক। এখানে পশুর যত্ন চোখের সামনে দেখা যায়। আমি একটা ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পছন্দ করে কিনেছি। খামারির সততা আর পশুর স্বাস্থ্য ভালো দেখে এখানেই রেখে গেলাম, ঈদের আগের দিন বাড়ি নিয়ে যাব।’

ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা ইনজেকশন ছাড়াই নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে এ বছরও খামারিরা প্রাকৃতিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন বলে দাবি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, ‘যশোর জেলায় এবার কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না, বরং চাহিদার চেয়ে অন্তত ১৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। আমাদের মেডিকেল টিম প্রতিটি উপজেলায় সক্রিয় আছে, যাতে কোনো খামারি ক্ষতিকর স্টেরয়েড ব্যবহার করতে না পারে। এবারও খামারিরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করেছেন। পশুর হাটগুলোতেও আমাদের ভেটেরিনারি টিম থাকবে যাতে ক্রেতারা সুস্থ পশু কিনতে পারেন।’

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে ৩৬ হাজার ২৫৯টি গরু, ৮১ হাজার ২৭৬টি ছাগল ও ৪৪২টি ভেড়ার পাশাপাশি কয়েকশ উট ও দুম্বা প্রস্তুত করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad