জামালপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা। খেলার সময় কিংবা গোসল করতে নেমে পুকুর, নদী ও ডোবার পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। গত দুই মাসে জেলায় পানিতে ডুবে ২৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ২০ জনই শিশু।
গত ৯ জুন মেলান্দহ উপজেলার এক পুকুরে ডুবে মারা যায় ৮ বছরের শিশু রিফাত ও তার এক বন্ধু। সন্তান হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার বাবা-মা। রিফাতের বাবা মঞ্জু মিয়া বলেন, ছেলেটি মৃত্যুর আগে তার কাছে ২০ টাকা চেয়েছিল ডিম খাওয়ার জন্য। কিছুক্ষণ পরই পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পান তিনি। তার ভাষায়, সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়ার চেয়ে ভারী কিছু পৃথিবীতে নেই।
একই উপজেলার আরেক শিশু আল নাফির বাবা আব্দুল রফিক বলেন, পুকুরপাড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। তিনি অরক্ষিত পুকুর খনন ও নিরাপত্তাহীনতাকে দায়ী করেন।
মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খাল-বিল ও জলাশয় কমে যাওয়ায় শিশুরা সাঁতার শেখার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে সামান্য পানিতেও তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
শিশুদের নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী মিনারা বলেন, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং শিশুদের সাঁতার শেখানোর উদ্যোগের অভাবও মৃত্যুহার বাড়ার অন্যতম কারণ।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জামালপুর জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা আহমেদ স্বপ্না জানান, বিভিন্ন সভার মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে এবং অরক্ষিত পুকুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি বছর সরকারিভাবে সাঁতার শেখানোর প্রকল্প না থাকলেও ২০২৭ সালে এমন একটি কর্মসূচি চালুর আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে জেলায় পানিতে ডুবে ৩০ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। চলতি বছরের অর্ধেক সময় পার হওয়ার আগেই আবারও শিশু মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে।


