ডাক্তার না পেয়ে ভিডিও ধারণ, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার হাসপাতালের

ডাক্তার না পেয়ে ভিডিও ধারণ, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার হাসপাতালের
রোগীর অভিভাবক মো. উবায়দুল্লাহ , চিকিৎসক ইসরাত জাহান মৌ । ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

কিশোরগঞ্জে আট মাস বয়সী সন্তানকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ডাক্তার না পেয়ে ভিডিও ধারণ করায় এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। পাকুন্দিয়া উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. উবায়দুল্লাহ তার সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসককে না পেয়ে তিনি মুঠোফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের কক্ষে তাকে আটকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ইসরাত জাহান মৌ ও হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে কিশোরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন উবায়দুল্লাহ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক দাবি করেছেন, রোগীর অভিভাবক তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন।

অভিযোগপত্র। ছবি: সংগৃহীত

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে যান উবায়দুল্লাহ। সেখানে চিকিৎসককে না পেয়ে তিনি কক্ষের একটি ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় হাসপাতালের এক সহকারী কর্মচারী বিষয়টি দেখে ফেলেন। পরে চিকিৎসক কক্ষে এলে ওই কর্মচারী ভিডিও ধারণের বিষয়টি তাকে জানান।

আরও পড়ুন

উবায়দুল্লাহর অভিযোগ, চিকিৎসক তাকে ডেকে ভিডিও করার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন কর্মচারী তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে চিকিৎসকও তার জামার কলার ও গলা চেপে ধরেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তার চিৎকার শুনে বাইরে থাকা রোগীর স্বজন ও অন্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উবায়দুল্লাহর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলার প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়েছে।

তবে ইসরাত জাহান মৌ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীর অভিভাবক তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং তার গায়ে হাত তুলেছেন। এ ঘটনায় তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন নাজমুল করিম বলেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক নূর মো. শামসুল আলম বলেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad