ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে পোশাকশ্রমিক দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম দি নিউইয়র্ক টাইমস। বাংলাদেশ প্রতিনিধি সাইফ হাসান ও দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো প্রধান মুজিব মাশালের এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। টাইমস অব বাংলাদেশ-এর পাঠকদের জন্য দেওয়া হলো সেই প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ।
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশে বিরাজ করা নেতৃত্ব-শূন্যতায় যে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দেখা গেছে, দীপু দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সেই পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলার বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশে ওত পেতে থাকা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বর্তমান মুহূর্তটিকে প্রকাশ্যেই কাজে লাগাচ্ছে।
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর এই হুমকির বিষয়টি ভারতে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বারবার তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। তবে এগুলো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার একটি বৃহত্তর নমুনার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ মাত্র। পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান ইসলামি কট্টরপন্থার প্রভাবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ প্রায়ই গণপিটুনির দিকে নিয়ে যায়। আফগানিস্তানে তালিবানদের কট্টর শাসন প্রতিষ্ঠার আগে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়ে সেখানকার অবশিষ্ট শিখ ও হিন্দু সংখ্যালঘুদের বড় অংশই দেশ ছেড়ে চলে গেছে।
ভারতে হিন্দু কট্টরপন্থীরা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, বিশেষ করে গরুর মাংস রাখার অভিযোগে। সবশেষ ঘটনায়, ভারতের দক্ষিণে গত সপ্তাহে এক অভিবাসী শ্রমিককে একদল লোক পিটিয়ে হত্যা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উচ্ছৃঙ্খল জনতা সেই শ্রমিককে ভুল করে ‘বাংলাদেশি’ মনে করেছিল। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকরা প্রায়ই মুসলিম অভিবাসীদের বর্ণনা করতে ‘বাংলাদেশি’ তকমা ব্যবহার করেন। ‘উচ্ছৃঙ্খল’ জনতার পিটুনিতে নিহত রাম নারায়ণ বাঘেল নামের ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ছিলেন ভারতের কঠোর বর্ণপ্রথার একদম নিচের স্তরের মানুষ।
গত আগস্টে বাংলাদেশের সাবেক নেতা শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তৈরি হওয়া অরাজকতার ঠিক পরপরই হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু নতুন ক্ষমতাসীনরা ধর্মীয় উগ্রদের লাগাম টেনে ধরতে খুব একটা সফল না হওয়ায় এই অসহিষ্ণুতা আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


