গত দুই বছর ধরে বিনোদন অঙ্গনে নিয়মিতই আলোচনায় ছিল গায়িকা জেফার রহমান ও উপস্থাপক রাফসান সাবাবের সম্পর্ক। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, কাজ ও আড্ডার ছবি দেখে ভক্তদের মধ্যে প্রেমের গুঞ্জন ছড়ালেও দুজনই বারবার তা অস্বীকার করেছেন। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন।
গেল শনিবার (১০ জানুয়ারি) তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আর বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর অদূরে আমিনবাজারের একটি রিসোর্টে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে। সকালে গায়েহলুদ এবং সন্ধ্যায় বিয়ের আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।
সম্পর্কের শুরু থেকেই জেফার ও রাফসান এটিকে ‘বন্ধুত্ব’ বলেই তুলে ধরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একসঙ্গে সময় কাটানোর ছবি দেখে ভক্তরা প্রেমের ইঙ্গিত পেলেও জেফার বারবার বলেছেন, পাবলিক কমেন্টের ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই রাফসানকে তিনি চেনেন এবং একসঙ্গে কাজ করা বা আড্ডা দেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। এই সম্পর্ককে প্রেম হিসেবে ব্যাখ্যা করাকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
রাফসান সাবাবও একই সুরে কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে করা নানা মন্তব্যকে তিনি ‘ভিত্তিহীন ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, কারো সঙ্গে কাজ করা বা বন্ধুত্ব থাকা মানেই প্রেম নয়। দুজনই ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যক্তিগত রাখার অবস্থানে অনড় ছিলেন।
দেশ-বিদেশে একসঙ্গে ভ্রমণের ছবি তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দুজনের একসঙ্গে থাইল্যান্ড ভ্রমণের কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে গুঞ্জন জোরালো হয়। তখনও জেফার রহমান ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি কেবল জানান, এসব বিষয় তিনি নিজের কাছেই রাখতে চান।
রাফসান সাবাবের দাম্পত্য বিচ্ছেদের ঘোষণার পর জেফার–রাফসান সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে চিকিৎসক সানিয়া সুলতানা এশার সঙ্গে তার তিন বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন রাফসান। তিনি জানান, দুই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তার সাবেক স্ত্রী এশা তখন দাবি করেন, তিনি এই বিচ্ছেদ চাননি।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশ জেফার রহমানকে এই বিচ্ছেদের জন্য দায়ী করতে শুরু করে। এ প্রসঙ্গে রাফসান একটি ভিডিও বার্তায় জানান, হঠাৎ করে নয়, প্রায় দেড় বছর ধরে ভেবেচিন্তেই তিনি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। জেফার রহমানও স্পষ্ট করেন, রাফসানের ডিভোর্স তার ব্যক্তিগত বিষয় এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।


