জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে সেজন্য নিজেদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ।
তিনি বলেন, ‘তোমরা বড় যোদ্ধা, দেশের পরিবর্তনকারী। জাতি তোমাদের সম্মান করে, অনেক কিছু প্রত্যাশাও করে। জাতির প্রত্যাশা পূরণে সজাগ থাকতে হবে।’
বুধবার ইউজিসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। ইউনেসকো ও ইউজিসি যৌথভাবে এই ‘সোশ্যাল ইমোশনাল ওয়েলবিং অব ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে।
এ সময় জুলাইয়ের ট্রমা থেকে শিক্ষার্থীদের বের হয়ে আসার আহ্বান জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।
ইউজিসি পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোছা. জেসমিন পারভিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।
এ সময় প্রফেসর তানজীমউদ্দিন খান বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম ও হলগুলোতে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা জারি ছিল। শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের ভোগান্তি ও মানসিক অশান্তিতে ছিল। খুব কম শিক্ষক এ সময় শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন। এই অবস্থার পরিবর্তনে শিক্ষার্থীরা অদম্য শক্তি দেখিয়েছে।’
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ব্যক্তি স্বার্থকে উপক্ষো করে দেশের স্বার্থে আন্দোলন করেছে। এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীসহ ১৪০০ জন শহিদ এবং প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আন্দোলন পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের ট্রমায় আছেন। এই ট্রমা কমিয়ে আনতে ইউজিসি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, শিক্ষায় উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে ইউজিসি কাজ করছে।’
মাছুমা হাবিব বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইউজিসি নিরন্তর কাজ করে যাবে।’
আইয়ুব ইসলাম বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হলে তাদের সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা এক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ইউজিসির সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫ শতাংশ আয়কর আদায় বন্ধে ইউজিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষার্থীরা।
কর্মশালায় জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী রিফাত হাওলাদার, সানজিদা তন্বী, রবিউস সানী, মাহফুজা খাতুন এবং উমামা ফাতেমাসহ ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, ইউনেসকোর সহায়তায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ইউজিসি একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় চলতি নভেম্বর মাস থেকে ২২টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা প্রদান করা হবে।


