বগুড়ার মম ইনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সংগীত আসর ‘টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আয়োজনটি শুরু হয় সমবেত সংগীতের ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা’ ও ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানের মাধ্যমে।
এবারের আয়োজনে কনকচাঁপাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। পাশাপাশি বিশেষ সম্মাননা পান লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া। এছাড়া মোট ১৮টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। উপস্থাপনায় ছিলেন অপু মাহফুজ ও নীল হুরেজাহান। পুরো আয়োজনের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন নির্মাতা রাজু আলীম।
আধুনিক গানে শ্রেষ্ঠ শিল্পী হয়েছেন লিজা (খুব প্রিয় আমার), ইউটিউব থেকে কমপক্ষে একলক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রাপ্ত আধুনিক গানে এঞ্জেল নূর (যদি আবার), আধুনিক গানে শ্রেষ্ঠ সুরকার বাপ্পা মজুমদার (অবশেষে), আধুনিক গানের শ্রেষ্ঠ গীতিকার তারেক আনন্দ (প্রেমবতী ), এবং শাহনাজ কাজী ( মা), শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড মেট্রিক্যাল (গণতন্ত্রের ঘুড়ি), শ্রেষ্ঠ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার সেতু চৌধুরী (গণতন্ত্রের ঘুড়ি), শ্রেষ্ঠ দ্বৈত সংগীত শিল্পী ইমরান ও সিঁথি সাহা (প্রেম বুঝি), শ্রেষ্ঠ লোকসংগীত শিল্পী বিউটি ( চার চাঁদে দিচ্ছে ঝলক), ইউটিউবে ১ লক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রপ্ত লোকসংগীত লটারির মাধ্যমে বিজয়ী শরিফ উদ্দিন দেওয়ান সাগর (মা লো মা), শ্রেষ্ঠ ছায়াছবির গান আতিয়া আনিসা (ছোট্ট সোনা), ইউটিউবে কমপক্ষে একলক্ষবার ভিউ এবং ১৫০০ লাইক প্রাপ্ত ছায়াছবির গান লটারির মাধ্যমে বিজয়ী দিলশাদ নাহার কনা (দুষ্টু কোকিল), ছায়াছবির গানে শ্রেষ্ঠ সুরকার শওকত আলী ইমন (ছোট্ট সোনা), ছায়াছবির গানে শ্রেষ্ঠ গীতিকার রোহিত সাধুখাঁ (বেঁচে যাওয়া ভালোবাসা), শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও নির্মাতা তানভীর তারেক (পাখি আমার নীড়ের পাখি), শ্রেষ্ঠ নজরুল সংগীত শিল্পী শহিদ কবির পলাশ (সৃজন ছন্দে), শ্রেষ্ঠ উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী নাশিদ কামাল (সব সখিয়া চলো), শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী সভ্যতা (অধিকার) এবং শ্রেষ্ঠ অডিও কোম্পানি হিসেবে সম্মাননা পেয়েছে বেঙ্গল মিউজিক।
পুরস্কার বিতরণের মঞ্চ মাতান রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিন। এছাড়াও কোনাল, ঝিলিক, ইমরান মাহমুদুল, লিজা, লুইপা, সালমা, শফিক তুহীনসহ জনপ্রিয় শিল্পীরা পরিবেশনায় অংশ নেন। বিশেষ পারফরম্যান্সে অংশ নেন অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও অভিনেতা আদর আজাদ।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই আয়োজন এবার ২০ বছরে পা রেখে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আয়োজকদের মতে, ঢাকার বাইরে বগুড়ায় এমন বৃহৎ আয়োজন দেশের সংগীতকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে, দুই দশকের ঐতিহ্য ধারণ করে বগুড়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন হয়ে উঠেছে এক বর্ণাঢ্য, তারকাখচিত এবং স্মরণীয় সংগীত উৎসব।


