দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেশের ফুটবলের ‘আঁতুড়ঘর’ ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ক্লাব ফুটবলের দামামা বাজার কথা। গ্যালারিতে আবারও প্রাণের স্পন্দন ফেরার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। উপলক্ষটাও দারুণ মহান বিজয় দিবস, ১৬ ডিসেম্বর। প্রতিপক্ষ যখন মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংস, তখন উত্তেজনার পারদ থাকার কথা তুঙ্গে। কিন্তু সেই উৎসবে যেন পানি ঢেলে দিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। উৎসবের ম্যাচটি দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজনের সিদ্ধান্তে রীতিমতো ক্ষুব্ধ ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
দীর্ঘদিন সংস্কারের ধুলো ঝেড়ে জাতীয় স্টেডিয়াম প্রস্তুত, অথচ সেখানে দর্শক ঢোকার অনুমতি নেই , এমনই এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাফুফে মোহামেডানকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিজয় দিবসের নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকবে। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে মোহামেডান-বসুন্ধরা কিংসের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি খেলতে হবে ফাঁকা গ্যালারিতে।
বাফুফের এই ‘নিরাপত্তা অজুহাত’ মেনে নিতে পারছে না সাদা-কালো শিবির। চিঠি পাওয়ার পরপরই পাল্টা চিঠি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ক্লাবটি। মোহামেডান কর্তৃপক্ষের যুক্তি সরল বিজয় দিবসের মতো দিনে সাধারণ মানুষ বিনোদনের খোঁজে স্টেডিয়ামমুখী হয়। এমন দিনে দর্শক ছাড়া ফুটবল ম্যাচ আয়োজন ফুটবলের নবজাগরণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মোহামেডানের চিঠির মূল সুর, যদি সত্যিই পুলিশের সংকট থাকে এবং নিরাপত্তা দেওয়া অসম্ভব হয়, তবে ১৬ ডিসেম্বরের পরিবর্তে অন্য কোনো সুবিধাজনক দিনে ম্যাচটি আয়োজন করা হোক। যাতে দর্শকরা মাঠে এসে খেলা উপভোগ করতে পারেন এবং পুলিশও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। দর্শকবিহীন মাঠে খেলে তারা ফুটবলের জৌলুস নষ্ট করতে চায় না।
ফেডারেশন কাপের এই ম্যাচটি মূলত হওয়ার কথা ছিল কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে। কিন্তু সেখানেও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের কারণে ম্যাচটি ঢাকায় স্থানান্তর করে বাফুফে। তখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল দলগুলো। কিন্তু ম্যাচ ঢাকায় আনার পর এখন নিরাপত্তার অজুহাতে দর্শক আটকাতে চাওয়ার বিষয়টিকে বাফুফের ‘টালবাহানা’ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোহামেডানের জন্য সময়টা এমনিতেই ভালো যাচ্ছে না। লিগের ৫ ম্যাচের মধ্যে ৩টিতেই হেরে নাজুক অবস্থায় আলফাজ আহমেদের দল। দলের এমন দুর্দিনে সমর্থকরাই হতে পারত তাদের বড় শক্তি। এমনিতেই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মনে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। এর মধ্যে যদি তারা স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সেই ক্ষোভ আগ্নেয়গিরিতে রূপ নিতে পারে।


