ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলের জন্য বিপদ ডেকে আনবে।’
দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, রোববার মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় এই মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যেকোনো আহ্বানের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করবেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘জাতিসংঘ ও অন্যান্য সব ক্ষেত্রে আমাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত মিথ্যা প্রচারণার এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের আহ্বানের বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হবে। কারণ, এটি আমাদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করবে এবং সন্ত্রাসবাদের জন্য একটি অযৌক্তিক পুরস্কার হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘে আমি সত্য তুলে ধরব। এটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের ন্যায়সংগত সংগ্রামের সত্য। সত্যিকারের শান্তির জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি—শক্তির মাধ্যমে শান্তি।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রীদের স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের পরপরই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। দেশগুলো বলেছে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের দুই-রাষ্ট্র সমাধানই সব নৈরাজ্যের অবসান ঘটাতে পারে।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কী পদক্ষেপ নেবে, তা আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে এসে জানাবেন বলে ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু।
এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘৭ অক্টোবরের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের পর যারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাদের কাছে আমার পরিষ্কার বার্তা—আপনারা সন্ত্রাসকে বিশাল পুরস্কার দিচ্ছেন।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জর্ডানের পশ্চিমে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।’
নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার নেতৃত্বে ইসরায়েল জুদিয়া ও সামারিয়ায় ইহুদি বসতি দ্বিগুণ করেছে এবং আমরা এই পথেই এগোব।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভূমির কেন্দ্রস্থলে আমাদের ওপর জোর করে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র চাপিয়ে দেওয়ার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়া আমি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে এসে জানাব।’
এদিকে, নেতানিয়াহুর জোটের সদস্যরা প্রকাশ্যে পশ্চিম তীরের কিছু অংশ, বিশেষ করে জর্ডান ভ্যালি সংযুক্ত করার দাবি তুলছেন।


