টসের সময় অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছিলেন কমপক্ষে ২৬০ রান হলেই ম্যাচ জেতার মতো যথেষ্ট হবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে অবশ্য অল্পের জন্য পা হড়কাচ্ছিল বাংলাদেশের। ২৯১ রান তাড়া করতে নেমে সালমান আগার সেঞ্চুরিতে ম্যাচটা প্রায় জিতেই গিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষ ওভারে রিশাদ হোসেনের দারুণ বোলিংয়ে পেল ১১ রানের জয়। এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। র্যাংকিংয়ে উঠল নবম অবস্থানে।
রান তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই হোঁচট খায় পাকিস্তান। ১৭ রানের মধ্যে পড়ে প্রথম তিন উইকেট। ইনিংসের পঞ্চম বলে তাসকিন আহমেদকে উইকেট দেন সাহিবজাদা ফারহান। পরের ওভারে নাহিদ রানার বাউন্সারে লিটনের হাতে ক্যাচ তোলেন আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাত। অভিষিক্ত গাজী ঘোরিকেও বোল্ড করেছেন নাহিদ। ৩৪ রানের ইনিংস খেলা আব্দুল সামাদ ক্যাচ দিয়েছেন লিটনের বলে।
বাংলাদেশের পেসারদের তোপে ৮২ রানের ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা পাকিস্তান ম্যাচ ফেরে সালমানের দারুণ ইনিংস। তার সাথে সাদ মাসুদের ৭৯ রানের জুটিতেই মূলত জমে ওঠে লড়াই। যদিও মোস্তাফিজের বলে বোল্ড হওয়ার পর সাদ আউট হওয়ার পর লড়াই চালিয়ে যআন সালমান। তাসকিনের বলে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৯৮ বলে ১০৬ রানের ইনিংস। ১০ ওভার বল করে ৪৯ রানে ৪ উইকেট নেন তাসকিন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে তানজিদের ১০৭ রানের ইনিংসের সাথে হৃদয়ের ৪৮ ও লিটনের ৪১ রানের ইনিংসে ভর করে ২৯০ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাট করেছেন তানজিদ। প্রথম বাউন্ডারিটা এসেছে তার সিগনেচার শট, ফ্লিকে।
হারিস রউফকে সেই ওভারেই মেরেছেন ফ্লিক করে বিশাল এক ছক্কা, ফাইন লেগের ওপর দিয়ে। সেখান থেকেই শুরু তানজিদের। চারটি ছক্কা আর তিনটি চারে ৪৬ বলে ছুঁয়েছেন নিজের ষষ্ঠ ফিফটি। সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ৯৮ বলে। অবশ্য ছক্কা মেরে যেভাবে সেঞ্চুরি করেছেন, সেটা হয়ে রয়েছে হাইলাইটস।
সালমান আলী আগার ঝুলিয়ে দেয়া বলটা পিচ করল স্লটে। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে তানজিদ তুলে মারেন লং অফের ওপর দিয়ে। বল উড়ে এসে পড়ল মিডিয়া প্রান্তের সাইট স্ক্রিনের কাছে। ছক্কা মেরে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। বোলিং প্রান্তে স্পিনার ছিলেন বলে হেলমেট ছাড়া ব্যাট করছিলেন, তাই খোলার দরকার পড়েনি। তবে উদযাপন হয়ে রইল স্পেশালই।
দুই হাত তুলে চোখ বুঝে আকাশপানে তাকিয়ে যেন স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেললেন তানজিদ। ব্যাট তুললেন ড্রেসিংরুমের দিকে। সেঞ্চুরির পর সিজদাতে লুটিয়ে কৃতজ্ঞতাও জানালেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। আর সেঞ্চুরিটাও পেলেন এমন এক ম্যাচে, যেখানে জিততেই হবে বাংলাদেশকে।
অবশ্য সেঞ্চুরির পর অবশ্য ইনিংস খুব বেশি টেনে নিতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। আবরার আহমেদকে স্কয়ার কাট করতে গিয়ে কভারে শাহীন শাহ আফ্রিদির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। থেমেছেন ১০৭ বলে ১০৭ রান করে।
এর আগে সাইফ হাসানের সাথে ওপেনিংয়ে গড়েছিলেন ১০৫ রানের জুটি। সাইফের বিদায়ের পর সেই জুটিতে ভর করেই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। আবরারের বলে শাহীনের হাতে ক্যাচ দিয়ে তানজিদ ১০৭ রানে থামলে ভাঙে লিটনের সাথে তার ৩৬ রানের জুটি। তানজিদ ফিরলে ৬৮ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন লিটন-হৃদয় জুটি। তবে ডেথ ওভারের ব্যাটিং ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। সুযোগ থাকার পরেও ৩০০ রানের কোট পেরোতে পারেনি স্বাগতিকরা। শেষ ১০ ওভারে তুলেছে মাত্র ৭৭ রান।


