নারীদের নিয়ে করা বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আসল চরিত্র প্রকাশ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের রেশ ঢাকতেই স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে এনেছে জামায়াত।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের উদ্যোগে শবে বরাত উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
জামায়াতে আমিরের উদ্দেশ্য রিজভী আরও বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনী যখন আমাদের মা বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, তখন সেই অত্যাচারকে আপনারা অত্যাচার বলেননি। বরং তাদেরকে আপনারা সমর্থন করেছেন, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। আজ কোন মুখে, কোন দূরভিসন্ধি নিয়ে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলছেন? কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজমই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক—এসব কথাও আপনারা বলতে পারেন। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছপা হন না।’
নারীদের নিয়ে জামায়াতের আমিরের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেই কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননামূলক মন্তব্যে সারাদেশের নারী সমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সেই ক্ষোভ ঢাকতেই তিনি এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিতর্কিত করে সত্য আড়াল করা যাবে না। নারীদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তাদের আসল চরিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।
গত সোমবার চট্টগ্রামে জামায়াতের আমির এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। সে প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, তিনি (অলি আহমদ) নিজেও কখনো এমন দাবি করেননি। এখন হঠাৎ করে রাজনৈতিক স্বার্থে এসব কথা বললে মানুষ কি তা গ্রহণ করবে? তিনি তো তার সামরিক বা পেশাগত জীবনে কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেননি।
শবে বরাতের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, কেউ কেউ ইসলামের নামে রাজনীতি ও ব্যবসা করে ফায়দা লুটতে চায়। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে। অথচ এদেশের মুসলমানরা ইসলামকে ব্যবসার বস্তু নয়, জীবনাচরণের আদর্শ হিসেবে ধারণ করে। আলেম-ওলামাদের দায়িত্ব হলো ইসলামের প্রকৃত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা, কিন্তু ধর্মের নামে মুনাফেকি করলে সমাজে পাপ-পঙ্কিলতা বাড়বেই।
নারীর মর্যাদা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। অথচ আজ নারীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ নারীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে পরে নানা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। এতে সারাদেশে ‘ছি ছি’ পড়েছে এবং নারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
তিনি বলেন, এই ক্ষোভ ঢাকতেই স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। কিন্তু এই কৌশল কাজে আসবে না। নারীদের প্রতি অবমাননামূলক বক্তব্যের দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।


