বাংলাদেশের আদালত ও বিচারব্যবস্থা পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থাকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সম্পাদক মোহাম্মদ আলীকে সংবর্ধনার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।
‘বাংলাদেশের আদালত, আইনি প্রক্রিয়া শেখ হাসিনা একেবারে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। এখন এখান থেকে নতুন করে বিনির্মাণ করতে হবে। আইনজীবীদের এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আদালত যেন হাসিনার আদালতে পরিণত না হয়,’ যোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে ন্যায়বিচারের ধারণা গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার ভাষায়, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ধারণা এ অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং তা কোনো ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার নয়।
তিনি বলেন, ন্যায্যতা, ন্যায়বিচার আমাদের সমাজ এবং কৃষ্টি-কালচারের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবেই রয়েছে, আইডিয়া অব জাস্টিস আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই জাস্টিসের ধারণার কারণেই আমরা নীতি, ন্যায্যতা শব্দ পেয়েছি। এটা এক দিনে তৈরি হয়নি, এটা দেড় হাজার বছর আগে, দুই হাজার বছর আগেই এই শব্দটি আমরা পেয়েছি। আমাদের বাংলাদেশি সমাজ বা টোটাল বাঙালি সমাজে এই নীতি, ন্যায্যতা অনেক পুরনো।’
পতিত সরকারের সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আদালতের রায় নির্ধারিত হতো এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কলম থেকেই বিচারকদের রায় লেখা হতো।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন দেখেছি, শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আদালতের রায় আসত, অ্যাটর্নি জেনারেলের কলম থেকে জজ সাহেবদের রায় আসত। সেই পরিস্থিতি এখন আর অব্যাহত রাখা যাবে না, সেই ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি হবে না। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডে আইনের শাসনের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বহর ট্রাফিক সিগন্যালে থেমে যাওয়া সুশাসনের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।
রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটি কাজের মধ্যে আমি আইনের শাসনের বহিঃপ্রকাশ দেখছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহর নিয়ে যাচ্ছেন, ট্রাফিক সিগন্যালে তিনি দাঁড়িয়ে গেছেন গোটা বহর নিয়ে, এটা তো সুশাসনের একটি ইঙ্গিত। এর পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে। সমাজের মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আইনজীবীদের।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সম্পাদক মোহাম্মদ আলীকে সম্মান জানাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে এম মতিনুর রহমান এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবু জাফর খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি জাকারিয়া হায়দার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম।


