বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নাম ভাঙিয়ে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখি মেলা আয়োজনের চেষ্টা স্থানীয়দের প্রতিরোধে ভণ্ডুল হয়েছে। তবে যাদের বিরোধিতায় এটি বন্ধ হয়েছে, তাদের অনেকেই হুমকি ধামকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। আর মেলার স্টলের সরঞ্জাম এখনও মাঠে পড়ে থাকায় শিশুদের খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৪ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজনের জন্য ৪ এপ্রিল ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে অস্থায়ী দোকানপাট নির্মাণ ও বিনোদনের সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ শুরু করে একটি চক্র। মাঠের একপাশে মসজিদ, একপাশে স্কুল এবং অন্যদিকে আবাসিক ভবন হওয়ায় এলাকাবাসী এর বিরোধিতা করে।
আয়োজকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নাম ভাঙানোর পর স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগী শওকত হোসেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাজেবুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ৭ এপ্রিল উপসচিব ‘অবৈধভাবে খেলার মাঠ দখল করে’ মেলা আয়োজন বন্ধের নির্দেশ দেন।
শওকতের অভিযোগ, এরপর তাকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় খেলার মাঠ এই একটাই। এলাকার ছেলে-মেয়েরা সারা দিন এখানে খেলাধুলা করে। সকালে ও বিকালে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা হাঁটাহাটিও করেন। সেই মাঠ দখলের প্রতিবাদ জানানোয় মেলা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত পারভেজ হোসেন নামের এক ব্যক্তি আমাকে মোবাইল ফোনে মনির নামের একজনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। এরপর তিনি আমাকে হুমকি দেন।’
শওকত হোসেন বলেন, এই মনিরই আলোচিত ‘গোল্ডেন মনির’, যার বিরুদ্ধে বহু বছর ধরেই এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আছে।
বিএনপির সবশেষ সরকারের আমলে ২০০৩ সাল থেকে বাড্ডা এলাকায় ‘গোল্ডেন মনির’ এর ব্যাপক প্রভাবের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে আসতে থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর তার নাম আবার সামনে আসছে।
হুমকি ধামকির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ এপ্রিল বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শওকত। এরপর অভিযোগটি তদন্তের জন্য বাড্ডা থানার এসআই ইকবাল হোসেন দায়িত্ব পান।
শওকত জানান, এরপর হাফিজ নামে একজন নিজেকে এসআই পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মনিরের সঙ্গে মিটমাট করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
মো. হাফিজুর রহমান নামে বাড্ডা থানায় একজন এসআই আছেন। যোগাযোগ করা হলে টাইমসকে তিনি নিশ্চিত করে বলেন, এই মনির হোসেনই আলোচিত ‘গোল্ডেন মনির’।
তিনি বলেন, ‘শওকত হোসেন এবং মনির হোসেন দুজনই একই এলাকার বাসিন্দা। তাই প্রতিবেশী হিসেবে তাদের মধ্যে সামাজিকতার বিষয়টি মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছি।’
মনিরও থানায় শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ এনে ডিজি করেছেন জানিয়ে হাফিজ বলেন, ‘আমি উনাকে (শওকত) কোনো প্রস্তাব বা হুমকি- কিছুই দেইনি, আমি আমার রেগুলার ডিউটি পালন করেছি।’
শওকতকে কল করে এসআই হাফিজের সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাড্ডা থানার ওসি কাজী মো. নাসিরুল আমীন টাইমসকে বলেন, ‘এমনটা হওয়ার কথা না। যদি হয়ে থাকে, তাহলে অভিযোগকারীর উচিত থানায় অভিযোগ করা। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
আরেক প্রশ্নে এই পুলিশ কর্তা বলেন, ‘এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে খেলার মাঠে মেলা আয়োজনের পদক্ষেপ বন্ধ করা হয়েছে। মাঠ থেকে মেলা আয়োজনের সরঞ্জাম জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে সেই মনিরের বক্তব্য জানতে পারেনি টাইমস। তবে শওকতের সঙ্গে ফোনে মনিরের কথা বলিয়ে দেওয়া পারভেজ হোসেন টাইমসকে বলেন, ‘শওকত হোসেন আমার পরিচিত। তিনি মানসিকভাবে অস্থির। কখন কী বলেন তার কোনো ঠিক নেই। তার কথাকে এত গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।’
মেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছিল। অনুমতি না পাওয়ায় মেলাটি আয়োজন করা হচ্ছে না। দুয়েকদিনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হবে।’


