চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার রেলওয়ে পাবলিক হাই স্কুল মাঠে চুরির অভিযোগে জয়নাল (২৭) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার দুপুরে এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা পুলিশের লাশবাহী গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
নিহত জয়নাল ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া ছোট মসজিদ এলাকার মৃত দুলালের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকাল ১০টার দিকে রেলওয়ে পাবলিক হাই স্কুল মাঠে চুরির সন্দেহে এক যুবককে আটক করা হয়। স্কুলের নিরাপত্তা কর্মীরা ওই যুবককে গণপিটুনি দেন। মারধরের একপর্যায়ে যুবকটির মৃত্যু হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ও নিহতের স্বজনরা বাধা দেন। তারা পুলিশের টহল গাড়িটি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন নারী বলেন, ‘যদি তিনি চুরিও করে থাকেন, তবে তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। প্রশাসন আছে, আইন আছে। তারা নিজেরা আইন হাতে তুলে নিয়ে বিচার করতে পারেন না।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই যুবককে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে এবং এমনকি তাকে কারেন্টের শকও দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই যুবক একটু পানি পান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

নিহত যুবকের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের অভিযোগ, চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা মরদেহ নিয়ে যেতে দেবেন না বলেও হুঁশিয়ার করেন।
ঘটনার পর কোতোয়ালী থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সদস্যরা বিক্ষুব্ধ জনতাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে চান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও জনতার বাধার মুখে পুলিশ মরদেহটি থানা বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়নি।
বর্তমানে রেলওয়ে পাবলিক হাই স্কুল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।


