ভিকারুননিসাতে ৮০ জন ফেল

ভিকারুননিসাতে ৮০ জন ফেল
Advertisement
Advertisement

সার্বিকভাবে পাসের হার ৯৭ শতাংশের বেশি, স্বভাবতই ছাত্রীরা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু স্কুলটির নাম যে ভিকারুননিসা নূন, যেখানে শতভাগ পাসের ফলাফল দেখেই অভ্যস্ত মানুষ। তাই থেকে যায় আফসোস।

এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৫১৪ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ৪৩৪ জন। অর্থাৎ ফেলের সংখ্যা ৮০ জন।

পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮৬ জন, অর্থাৎ প্রতি একশ জনের মধ্যে ৪০ জনই পেয়েছে সর্বোচ্চ জিপিএ।

সার্বিকভাবে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। সারাদেশে পাসের হার কমেছে ৬ শতাংশের বেশি। ভিকারুন নিসাতেও পাসের হার কমেছে।

গত বছর আলোচিত এই স্কুলে ফেল করা ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৪০। সেবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৫৬৯ জন, পাস করে ২ হাজার ৫৩৫ জন, পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ০৬ শতাংশ।

ওই বছর জিপিএ-৫ পায় ১ হাজার ৭৩৭ জন, অর্থাৎ যারা পাস করেছিল, তাদের প্রায় ৬৯ শতাংশই পায় সর্বোচ্চ জিপিএ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার কমেছে ১ দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৫১ জন।

তবে স্কুলটি সাফল্যই উদযাপন করেছে।

আরও পড়ুন

সোমবার সকাল ১০টায় ফল প্রকাশের পর অনলাইনে ফলাফল দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে স্কুল প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। অনলাইনে ফল দেখতে কিছুটা সময় লাগতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে দ্রুত ফল জানার আশায় প্রতিষ্ঠানটিতে আসেন।

ফল জানতে আসা আলম হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইন্টারনেটে দেখতে পারতাম, তারপরও অফিস পাশে হওয়ায় চলে এলাম মেয়ের আনন্দ দেখতে।’

অভিভাবক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাসায় ইন্টারনেটে দেখতে সময় লাগতে পারে আশঙ্কায় কলেজে এসেছি। এখানে সবার সঙ্গে একত্রে মেয়ের ফল দেখার ইচ্ছা থেকেই এসেছি।’

ফল প্রকাশের পর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। কেউ সহপাঠীদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে, কেউ আবার বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে আবেগে কেঁদে ফেলে। অভিভাবকেরাও একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে সন্তানদের সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী জান্নাতুন জুই বলেন, ভালো ফলের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

‘রাত জেগে পড়াশোনা করতাম। আমার আম্মুও রাত জেগে বসে থাকতেন আমার সঙ্গে। আমি জিপিএ-৫ পাওয়ায় আব্বু-আম্মু অনেক খুশি হয়েছেন। এ জন্য ভীষণ ভালো লাগছে,’ বলেন তিনি।

মেয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে সেলিনা বেগম বলেন, ‘পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর রেজাল্টও ভালো হোক এবং মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক সৃষ্টিকর্তার কাছে এই দোয়াই করি।’

অন্যদিকে প্রত্যাশিত ফলাফল না পেয়ে কান্নার রোলও দেখা গেছে স্কুলটিতে। মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা গেল রাইসা বিনতে খানকে। ‘নিয়মিত পড়াশোনা করেছি। তারপরও আমার জিপিএ-৫ আসেনি। রেজাল্ট একটু খারাপ হয়েছে তাও বাবা মা খুশি,’ নিজের প্রতিক্রিয়া এভাবেই তুলে ধরে মেয়েটি।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad